জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলো না: জি এম কাদের

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:১৯ পিএম

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ তার দলকে জোর করে নির্বাচনে নিয়েছে। এতে জাতীয় পার্টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জিএম কাদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি কি মন্ত্রী হতে নির্বাচনে গিয়েছি? আমি তো ২০০৮ সালে মন্ত্রী ছিলাম। তখনকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে, পদত্যাগ করেছিলাম। আমি কখনও মন্ত্রিত্বের জন্য রাজনীতি করি না।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন জাতীয় পার্টি বর্জন করেছিলো। ৩০০ আসনের মধ্যে আমিসহ ২৭০ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছিলো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাইনি এবং সংসদেও যাইনি। তখন আওয়ামী লীগ আমাকে মন্ত্রিত্ব দিতে চেয়েছিলো, আমি রাজি হইনি।

২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করে জাপা । ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপাকে ৩৩টি আসন দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। সেবার বিরোধী দলের আসনে বসলেও মন্ত্রিসভায় ছিলেন জাপার কয়েকজন সংসদ সদস্য।

২০১৮ সালের নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে ২৩টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে নানা দেনদরবার করে ২৬টি আসনে ছাড় পেয়েছিলো জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। কিন্তু জিতছিলো মাত্র ১১টিতে।

মহিলা পার্টির সভায় জি এম কাদের বলেন, আমরা জনগণের কোনো ক্ষতি করিনি, জনগণের উপকার করতে চেষ্টা করেছি। ২০১৪ সালে যখন আমরা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তখন আরেকটা গ্রুপ বানিয়ে তাদের লাঙ্গল মার্কা দিয়ে নির্বাচনে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলো সরকার। আমি বিশ্বাস করিনি। তাই ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা ২৭০ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছিলাম।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচন আমরা বর্জন করতে চেয়েছিলাম। আমাদের বাধ্য করা হয় নির্বাচনে যেতে, এটা সবাই জানে। ১৭ ডিসেম্বর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, আমরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার লোকজন আমাদের অফিস ঘেরাও করে রাখে। আমাদের সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করতে দেয়নি।

তিনি বলেন, জোর করে নির্বাচনে নেওয়ার কারণে আমাদের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন বর্জন করতে পারিনি। আওয়ামী লীগের পতন না হলে আমাদের দল বিলীন হয়ে যেতো। আওয়ামী লীগের পতন না হলে কোনো দলই বাংলাদেশে থাকতো না।

জি এম কাদের বলেন, আমরা কখনোই আওয়ামী লীগের দোসর ছিলাম না, আমরা সব সময় জনগণের দোসর ছিলাম। জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির আদর্শগত মিল আছে কিন্তু চরিত্রগত কোনো মিল নেই। জাতীয় পার্টিকে সব সময় ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে জাতীয় পার্টি নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র এখনও চলছে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা যাইনি। আমাদের কিছু লোককে বাধ্য করে নির্বাচনে নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তো বিএনপি অংশ নিয়েছিলো। মার্কা ছিল না কিন্তু দুই ধাপ পর্যন্ত বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। ২০১৮ সালে বিএনপিসহ সকল দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো, আমরাও নির্বাচনে ছিলাম।

প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

কেএসএইচ
এবার জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে আত্নপ্রকাশ করলো জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশ দুটিসহ মোট ১৮টি দল...
আওয়ামী লীগ না পারলেও জাতীয় পার্টিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেবে না সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একাত্তরকে জানান, আইনিভাবে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলই অংশ নিতে পারবে আগামী...
পরিচ্ছন্ন ইমেজের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জাতীয় পার্টি থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। 
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা আট মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় মা-ছেলে ও এক কিশোরসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা দুটিতে আলাদা বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার...
বরগুনা জেলা পরিষদের সদর ডাকবাংলোর তিনতলার দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর