বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেশব্যাপী ৭০০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ১৯ হাজার জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। সচিব জানান, প্রাথমিকভাবে ১৮ হাজার ৩৮০ আহত এবং নিহত ৭০০ এর বেশি।
আকমল হোসেন বলেন, এই আন্দোলনে যারা আহত হয়েছে তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও যাদেরকে বিদেশ নেওয়ার প্রয়োজন হবে তাদের জন্য সেটাও ব্যবস্থা করা হবে।
সচিব বলেন, আন্দোলনে আহত ছাত্র ভাইদের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে, তেমন কোনো দায়ভার নিয়ে জাতির কাছে আমরা পার পাবো না। সেজন্য আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। আহত ছাত্রদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করছি। আমাদের আওতায় না থাকার পরও বিমান বাংলাদেশ বিনামূল্যে টিকিট দিয়েছে। কেউ না দিলেও আমরা ব্যবস্থা করবো।
তিনি আরও বলেন, কতজন ছাত্র বা জনতা আহত-নিহত হয়েছেন সে ব্যাপারে একটি টাস্কফোর্স বা কমিটি হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের একজন সাবেক স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এ সংখ্যাটি নিরূপণের চেষ্টা করছেন। আমাদের ডাটাবেজ, কমিটির তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে একটি সংখ্যা জানাতে চাই। তবে এটিই চূড়ান্ত নয়।
এদিকে সচিব জানান আওয়ামী লীগ সরকারের চূড়ান্ত করা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনটি অনুমোদনের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ১২ বছর ধরে যে আইন নিয়ে গবেষণা হয়েছে, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, চা-নাস্তায় খরচ হয়েছে— সেটি ১২ দিনে পারি নাই, ২৪ দিনের মধ্যে, সেটা আজকে আমার দায়িত্ব নেওয়ার ২১ দিন, আগামী তিন দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে যাবে। ২০১২ সালে তৈরি করা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন-২০২৪ এখন পর্যন্ত গবেষণা আকারে আছে। আমি ২১ দিন আগে এসেছি, এসে দেখি এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে, আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের অভাবে যায়নি। আমি প্রধান উপদেষ্টাকে কথা দিয়েছি, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঠিয়ে দেবো। আমি কথা দিচ্ছি, রোববারের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যাবে খসড়া আইন।
তিনি আরও বলেন, আইনে রদবদল করার এখতিয়ার ক্যাবিনেটের সাব-কমিটির। তারা চাইলে আমাদের কাছে ফেরত পাঠাতে পারে। আমি যতটুকু বুঝেছি আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এতদিন এটি মন্ত্রিপরিষদে যায়নি।
চিকিৎসা সেবায় ১৬ বছরের সমস্যা এত দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাইকিং করে গুড়িয়ে দেয়া হলো লেংটার মাজার