লম্বা সময়ে আইনি লড়াই শেষে অবশেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলন। দলটির প্রতীক মাথাল।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব শফিউল আজিম গণসংহতি আন্দোলনের একটি প্রতিনিধি দলের কাছে দলটির নিবন্ধন সনদ হস্তান্তর করেন।
ইসির গেজেটে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনে দেওয়া রায় ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গণসংহতি আন্দোলনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছে।
নিবন্ধন পেয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, গেলো সরকার ফ্যাসিস্ট কায়দায় সব দমন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও দমন করা হয়েছিলো।
'পরে কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। অবশেষ নির্বাচন কমিশন সব বিধি মেনে আমাদের নিবন্ধন দিয়েছে,' যোগ করে সাকি বলেন, পুরো নিবন্ধন বিধি পরিবর্তন করা দরকার বলে মনে করি। রাজনৈতিক দল তৈরি করার ক্ষেত্রে এই বিধি একটা বাধা।
কমিশন সচিব শফিউল আলম বলেন, গণসংহতি আন্দোলন রাজনৈতিক দল হিসেবে আবেদন করেছিলো ২০১৭ সালে। এরপর আগের কমিশন আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই অনুমোদন আগের কমিশন করে গেছে। আমরা তা ফলো করছি।

লম্বা লড়াই
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন চেয়ে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করে গণসংহতি আন্দোলন। তবে ইসি থেকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।
এরপর জোনায়েদ সাকি হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল গণসংহতি আন্দোলনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
তবে নিবন্ধনের জন্য গণসংহতির আবেদন নাকচ করে দেয় ইসি। এরপর ইসির ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আবারও গণসংহতি আন্দোলনকে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন।
২০২২ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এর মধ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে। গত পাঁচ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের।
এরপরই গত ১০ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলনকে নিবন্ধন দিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল তুলে নেয় নির্বাচন কমিশন। আর এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে গণসংহতিকে নিবন্ধন দিতে আইনি কোনো বাধা থাকে না বলে তখন জানান আইনজীবীরা।
সাকির গণসংহতিকে নিবন্ধন দিতে বাধা নেই