মাস্কাটে ইরান-মার্কিন সংলাপে দূর হয়নি যুদ্ধ ও অবিশ্বাসের মেঘ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠককে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করলেও, ওমানে অনুষ্ঠিত এই পরোক্ষ আলোচনা মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা প্রশমিত করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে পারেনি। শুক্রবার মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পাঠিয়েছিল বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কমান্ডার এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারও যোগ দিয়েছিলেন।

আলোচনা শেষে মাস্কাটে ইরানি টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, এই পরোক্ষ প্রচেষ্টা ছিল একটি ভালো সূচনা, তবে পরবর্তী দফার আলোচনা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে পরামর্শের পর।

তবে আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি অবিশ্বাসের পরিবেশ বিরাজ করছে। কারণ, গত জুনে ইসরাইলের সাথে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। উল্লেখ্য, এই হামলার মাত্র কয়েক দিন পরেই ওমানে ষষ্ঠ দফার পরোক্ষ আলোচনা নির্ধারিত ছিল।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাঈদি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে আলাদাভাবে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন। 

তিনি বলেন, ইরানি ও আমেরিকান চিন্তাভাবনা স্পষ্ট করতে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে এটি ফলপ্রসূ ছিল। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই যথাযথ সময়ে পুনরায় মিলিত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আলোচনা মূলত কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আলোচনার পুনরায় শুরুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

মাস্কাটের এই আলোচনা এমন এক উত্তাল সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হলো যখন ওয়াশিংটন ইরানের জলসীমার কাছে সুপার ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটির ওপর হামলা চালানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, এমনকি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বীকৃত ৩.৬৭ শতাংশ হারে বেসামরিক কাজে সমৃদ্ধকরণও। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান। গত জুনে মার্কিন বোমায় ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে দেশটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করত।

ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির পরিসর সীমিত করতে চায় এবং নিশ্চিত করতে চায় যে ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেন আর কোনো সামরিক বা আর্থিক সহায়তা না পায়। বেশ কিছু ইউরোপীয় শক্তি এবং ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে।

তবে ইরান সরকার বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা শুধু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং উত্তেজনা কমানোর স্বার্থে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করবে। মিসাইল বা অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা তাদের জন্য রেড লাইন বা অগ্রহণযোগ্য। শুক্রবার আরাগচি আবারও স্পষ্ট করেছেন, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকি বন্ধ হোক।

এদিকে, ইরানি কমান্ডাররা জানিয়েছেন, তারা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গত বৃহস্পতিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশের অন্যতম আধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম প্রেস টিভিস জানিয়েছে, খোররামশাহর-৪ মিসাইলটি একটি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি থেকে মোবাইল লঞ্চারে করে বের করে আনা হয়েছিল, যা ইসরাইল এবং এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ইরানের সাধারণ মানুষ নিবিড়ভাবে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে গত বছর ইসরাইলের সাথে যুদ্ধের আগে অনুষ্ঠিত পাঁচ দফার আলোচনার সময় যে সতর্ক আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই।

তেহরানের বাসিন্দা সরোশ আল জাজিরাকে বলেন, তিনি আশা করেন এই আলোচনা যেন ইরানের ওপর ঝুলে থাকা যুদ্ধের কালো মেঘ সরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুধু ভয় আর উদ্বেগই আনে না, বরং অর্থনৈতিক চাপকে দ্বিগুণ করে দেয়। উল্লেখ্য, ইরান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আরেক বাসিন্দা মারিয়ম বিশ্বাস করেন, উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই আলোচনা সফল হবে না এবং অবধারিতভাবে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে।

এদিকে, গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় ক্ষুব্ধ কিছু ইরানি নাগরিক আবার সামরিক সংঘাতকেই স্বাগত জানাচ্ছেন। রাজধানীর বাসিন্দা আমির বলেন, যুদ্ধ ভালো কিছু নয়, কিন্তু আমরা এখন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধের চেয়েও বড় এবং ভয়াবহ। আমার মনে হয় না যুদ্ধের ফলে বর্তমানের চেয়ে খারাপ কিছু ঘটবে।

ইরান সরকারের দাবি, বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে এবং এর জন্য তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে নয়, বরং সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীদের" দায়ী করেছে। তবে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার এবং আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতাল ও কর্মীদের ওপর হামলার প্রমাণ পেয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

এআরএস
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত রবিবার তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে...
রূপকথার মতো ক্যারিয়ারে হাজার হাজার ছবি আর ভিডিও আপলোড করেছেন লিওনেল মেসি, কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক আগের দিন তাঁর ইনস্টাগ্রামের সর্বশেষ পোস্টটি যেন একদম অন্যরকম এক আবেগের সুনামি বইয়ে দিয়েছে!...
১০ বছর আগে যে মাঠ সাক্ষী ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও হৃদয়বিদারক রাতের, ফুটবল ঈশ্বর যেন ঠিক সেই মঞ্চেই ফিরিয়ে আনলেন তাকে! যে কান্নায় একদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব, আজ এক দশক পর ঠিক...
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, আর তা নিয়ে গোটা দুনিয়াজুড়ে উন্মাদনা এখন চরমে! লাতিন বনাম ইউরোপীয় ফুটবলের এই ধ্রুপদী লড়াইয়ের চেয়েও...
স্পেনের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তীব্র উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের। আর এই স্নায়ুচাপ সামলাতে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এখন একমাত্র ভরসা, নানা অদ্ভুত আর...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর