ফিলিস্তিন ও হামাসের সবচেয়ে কাছে মিত্র ও বন্ধু লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠি হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে অনেক দিন থেকেই এই সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা মিশন চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এ লক্ষ্য চোরাগোপ্তা হামলার পাশাপাশি হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকর্তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে ইসরাইল।
সোমবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পরদিনও মঙ্গলবার নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলের যুদ্ধবিমানগুলো। একই সঙ্গে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের হামলার লক্ষ্য ছিলো সংগঠনটির কোন এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে। তবে ঠিক কাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে, তা জানাতে অস্বীকার করেছে ইসরাইলের সামরিক সূত্রগুলো। হামলার কথা জানালেও বিস্তারিত কোন বিবরণ দেয়নি ইসরাইল।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা বৈরুতে একটি লক্ষ্যবস্তু হামলা চালিয়েছে, তবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বিমান হামলাটি শহরের ব্যস্ততম ঘোবেরি পাড়ার একটি ভবনে আঘাত হানে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো একটি পাঁচতলা ভবনের উপরের তলার ক্ষতি দেখানো একটি ছবি শেয়ার করেছে।
ইসরাইল, লেবাননে হিজবুল্লাহ’র বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে নতুনভাবে বিমান হামলা শুরু করে জানিয়েছে, যে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা থাকলেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠিটির উপর চাপ বজায় রাখবে। ইসরাইলে রকেট ছোঁড়া বন্ধ করতে যা যা করণীয় তার সবই করবে বলেও হুশিয়ারী দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা শুরু করার একদিন পর লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় পাঁচশ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক প্রধান হারজি হালেভি বলেছেন, হিজবুল্লাহর উপর আক্রমণ আরও তীব্র করা হবে।

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ’র মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়ে চলছে। এরিমধ্যে লেবাননে উত্তেজনা প্রশমনে প্রভাবশালী সব রাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এখনও ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যকার উত্তর সীমান্তের উত্তেজনা কমাতে একটি পথ খুঁজে পেতে পারি এবং একটি কূটনৈতিক সমাধান আনতে পারি, যা মানুষকে তাদের বাড়িতে ফিরে যাবার সুযোগ করে দেবে।
সোমবার ইসরাইলের যুদ্ধবিমান হিজবুল্লাহর এক হাজার ছয়শটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এসব জায়গায় আক্রমণ চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট ধ্বংস করা হয়েছে। বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে এক হাজার ৮৩৫ জন।
এই হামলার জবাবে লেবানন থেকে সোমবার রাতে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাও ইসরাইলকে নিশানা করে পাল্টা হামলা চালিয়েছেন। আইডিএফ জানিয়েছে, লেবানন থেকে আফুলা এলাকা ও উত্তর ইসরাইলের উপত্যকা লক্ষ্য করে ২০০টির বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছে অন্তত দুই ইসরাইলি।
