ইতিহাস বলছে ইসলাম ধর্মের প্রসার হয়েছে ন্যায় আর সত্যের ওপর ভর করে। অন্যদিকে ইহুদিবাদের বেড়ে উঠা অন্যায় আর অসত্যের ওপর। আবার মুসলিমরা মুখে যা বলে সেটি করেও দেখায়। অন্যদিকে, ইহুদিরা উল্টো। যা বলে তা না করে, নানা রকম দুষ্ট বুদ্ধি আর কূটকৌশলের আশ্রয় নেয় ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল।
হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ, হামাস নেতা হানিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধ যুদ্ধের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ এবং ইরানের নাগরিক ও স্বার্থরক্ষার থেকে এটি একটি ‘অবধারিত’ প্রতিক্রিয়া হিসাবে মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে মিসাইলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলো তেহরান।
হামলার পরপরই, ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরান বড় ভুল করে ফেলেছে। এ জন্য দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এমনকি ইরানের নাম উচ্চারণ না করেই ইসরাইলি কর্তারা হুংকার ছেড়েছিলো বুধবার রাতেই শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।

কিন্তু হামলা তো দূরের কথা, উল্টো লেবাননে নাক গলাতে গিয়ে হিজবুল্লাহর গেরিলা হামলায় আট সেনাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইসরাইল। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, তেল আবিব সহজে ছাড় দেবে না তেহরানকে। কোনো না কোনো উপায়ে ইরানকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেই যাবে ইসরাইল।
ইসরাইলি পরিকল্পনাকারীরা সম্ভবত এখন ইরানকে কীভাবে এবং কতটা কঠিনভাবে জবাব দেবে তা নিয়েই বিতর্ক বিতর্ক করে সময় কাটাচ্ছে। সেই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহের তথ্য, গুপ্তচর মোসাদ ও ইরানের ভেতরে নিজস্ব এজেন্টদের কাছ থেকে নানা ধরনের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে তেল আবিব।
কিন্তু ইসরাইলের প্রতিশোধ কেমন হতে পারে? দেশটির এখনকার কৌশল হলো এক সাথে দুইভাবে এগুনো: হত্যা, বিমান হামলা ও প্রতিরোধ- যার মাধ্যমে ইরান ও ছায়াশক্তিগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া যে ইসরাইলে আঘাত করলে আরও বেশি শক্তি এবং ভয়ংকর প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের যেসব স্থান থেকে মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে সেসব স্থানের বিভিন্ন স্থাপনাকে প্রাথমিক টার্গেট করবে ইসরাইল। এরপর যারা মিসাইল হামলার নির্দেশদাতা তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা নেবে দেশটি। এরচেয়ে বেশি কিছু ভাবলে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করতে পারে ইসরাইল।

ইসরাইল যে, প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য অস্থির হয়ে উঠবে সেটি বেশ ভালো করেই জানে ইরান। যে পথেই ইসরাইল হামলা করুক না কেন, ইরানের পাল্টা হামলাও অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এবং এর মাধ্যমে দেশ দুটি হামলা ও প্রতিশোধে চিরস্থায়ী এক চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়বে।
ইরান সামরিকভাবে ইসরাইলকে পরাজিত করতে পারবে কিনা সেটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, তবে দেশটির মিসাইল ভাণ্ডার নিয়ে সত্যি সত্যিই চিন্তিত তেল আবিবের পশ্চিমা দোসরা। মিসাইল ছাড়াও আছে ভয়ংকর সব ড্রোন, সেগুলো মণকে মণ বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। সেই সঙ্গে আছে প্রতিরোধ অক্ষের বন্ধুরা।
ইসরাইলের পাশে যদি আমেরিকা থাকে, তাহলে ইরানের পাশে রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাক ও সিরিয়ার মিলিশিয়রা। বছর পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রতিরোধ অক্ষ গড়ে তুলেছে ইরান। ফলে ইসরাইল হামলা করার আগে এসব বিষয়কে বিবেচনায় নিতে বাধ্য।
দুর্দান্ত সাহস আর মনোবলের উপর ভর করে গড়ে উঠা ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি’র রয়েছে দুর্দান্ত নৌশক্তি। এই বাহিনীর সংগ্রহে আছে অনেকগুলো অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যেখানে রয়েছে ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের ভাণ্ডার। মার্কিন পঞ্চম ফ্লিটকে অভিভূত করার ক্ষমতা রাখে ইরানের নৌবাহিনী।

পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর থেকে শুরু করে ভারতীয় মহাসাগরেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। এতে ধস নামবে জ্বালানি তেলের বাজারে। কারণ এ পথেই নিশ্চিত করে জ্বালানি তেলের বিশ শতাংশ প্রবাহ।
এছাড়াও আক্রান্ত হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্বার্থেও আঘাত হানবে ইরান। কুয়েত থেকে ওমান হয়ে উপসাগরের আরব প্রান্তে রয়েছে বহু মার্কিন ঘাঁটি। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি আক্রমণ হয় তবে তারা শুধু ইসরাইলে পাল্টা আঘাত করবে না, দেশটির সমর্থনকারী যে কোনও দেশকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
তেলআবিব এবং ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদদের বিবেচনাতেও রয়েছে এমন সব পরিণতির কথা। ফলে ইরানের গায়ে হাত দেয়ার আগে দশবার ভাবতে হবে ইসরাইলকে। এরিমধ্যে ইসরাইলের প্রতিশোধ পরিকল্পনা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
গাজার প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরাইলের