দখলদার ইসরাইলের কয়েক দশক ধরে চালানো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবার আর কোন ছাড় নয়। এমন মন্ত্র নিয়েই যেন মাঠে নেমেছে ইসলামিক প্রতিরোধ দলগুলো। যার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইরান।
ইয়েমেন থেকে হুথি, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিন থেকে হামাসসহ সিরিয়া ও ইরাকের প্রতিরোধ দলগুলো চারদিক থেকে চেপে ধরেছে ইসরাইলকে।
এরমধ্যেই সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে রুশ গণমাধ্যম আরটি জানিয়েছে- ইসরাইলের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ১০ স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। যেগুলোতে হামলা হলে ভেঙে পড়বে পুরো ইসরাইল।

গেল সপ্তাহে ইসরাইলে ইরানের হামলার পর ঘুরে গেছে যুদ্ধের মোড়। এরপর থেকেই তেল আবিবকে ঘিরে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে প্রতিরোধ দলগুলো।
২০০৬ সালের পর প্রথমবার ইসরাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হাইফাতে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। একের পর এক হামলায় ইসরাইলজুড়ে বাজছে সাইরেন।
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যুদ্ধের মধ্যেও ইসরাইলের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে সেখানকার নাগরিকদের প্রাণভয়ে ছুটে বেড়ানোর দৃশ্য।
প্রতিরোধ দলগুলোর ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে জীবন বাঁচাতে শহরগুলোর এমাথা থেকে ওমাথায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন ইসরাইলের বাসিন্দারা।

হুথি, হিজবুল্লাহর হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে ইসরাইলের একের পর এক জনপদ। আয়রন ডোমকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন বিস্ফোরিত হচ্ছে ইসরাইলের মাটিতে।
ইসরাইলজুড়ে চলা এমন ভীতি আর আতঙ্কের মধ্যেই নতুন করে হুঁশিয়ারি পাঠিয়েছে ইরান। তেহরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের সম্ভাব্য যে কোন হামলার জবাবে তেল আবিবকে নরকে পরিণত করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস।
ইসরাইলের ১০টি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নিজেদের অস্ত্র তাক করা আছে বলে জানিয়েছে দলটি। এরমধ্যে তেলক্ষেত্র, অস্ত্রাগার, সামরিক ঘাঁটি, বাণিজ্যিক বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেশ কিছু স্থাপনাও আছে।
এর আগে গেল সপ্তাহেই বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইসরাইলের মাটিতে প্রায় দুইশতাধিক মিসাইলের আঘাত হানে ইরান। ইসরাইলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ৯০ শতাংশ মিসাইলই সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে তেল আবিব।

এরপর থেকেই এই অপমানের জবাব দেয়ার পথ খুঁজছে নেতানিয়াহুর সরকার। তবে ইরান জানিয়েছে- পাল্টা হামলা চালালে ইসরাইলকে গুঁড়িয়ে দেয়ার অস্ত্র কাজে লাগাবে তারা।
আগের মিসাইল হামলার চেয়ে কয়েকশ’ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে এবারের আক্রমণ। আয়তনে ইরানের চেয়ে বহু গুণ ছোট ইসরাইলে এমন মাত্রার হামলা পুরো দেশটিকেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত করতে পারে।
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের উপর সম্ভাব্য হামলার জন্য মিলিতভাবে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বার্তা পাঠায় ইরান।
জানিয়েছে, সংঘাত এড়াতে এককভাবে ধৈর্য্যে ধরে রাখার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে তেহরান। তাই ইসরাইলকে উস্কানি দেয়া দেশগুলোও এমন হামলার নিশানা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সম্ভাব্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির খবরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পশ্চিমারা। সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা না চালাতে ইসরাইলকে বিশাল অঙ্কের ঘুষেরও লোভ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
