কাবাব, বিরিয়ানি, বাখরখানিসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকা। চারশো’ বছরেরও বেশি বয়সী এই নগরের অলিগলিতে ভেসে বেড়ায় খাবারের সুবাস। হোটেল-রেস্তরাঁয় পরিবেশন হয় সুস্বাদু খাবার। যার স্বাদ নিতে গভীর রাতেও ছুটে আসেন নগরবাসীরা।
তবে, রসনাবিলাসীদের আনন্দে থাবা বসিয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের কারণে খাবারের দাম বাড়ছে। দিন দিন কমছে ক্রেতার সংখ্যা।

পুরান ঢাকার খাবারের রয়েছে বাহারি নাম। এর স্বাদ নিতে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোজনপ্রেমীরা ভিড় জমান এখানকার রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোতে। গভীর রাতেও রসনা বিলাসে বাড়ে খাদ্যপ্রেমীদের আনোগোনা। যদিও তাতে পড়েছে টান।
নানা পদের খাবারের এই সুনাম একদিনেই তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে তৈরি হয়েছে এই ঐতিহ্য। শুরু থেকেই খাবার মান ও স্বাদ নিয়ে কোনো আপোষ করেনি পুরান ঢাকার পাচকরা। ফলে এসব খাবারের সুনাম দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর ভোজন রসিকদের কাছে।

তবে, সাম্প্রতিক সময়ের ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল ভোজনরসিকরা। ইচ্ছা থাকলেও খাবারের দাম সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়াতে তাদের ভিড় কমছে। ভোক্তারা বলছেন, কঠোরভাবে বাজার তদারকি ও সেই সাথে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত হলে এই অবস্থার উত্তরণ সহজ হবে।
আবার খাবার বিক্রেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতা ধরে রাখতে গিয়ে তাদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে। কমেছে দের আনাগোনা। এ যেন শাখের করাত পরিস্থিতি। খাবারের মান ঠিক রাখতে গেলে দাম বেড়ে যাচ্ছে, আবার দাম বেড়ে গেলে ক্রেতা কমে যায়।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার বাখরখানি নিয়েও কপালে ভাঁজ ক্রেতা ও বিক্রেতার। ক্রেতার অভাব আর বিক্রি কমে যাবার কারণে বাখরখানি তৈরির অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি বাখরখনি তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগরদের মধ্যে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন অথবা বিদেশে চলে যাচ্ছেন।
নিত্যপণ্যের দাম হাতের নাগালে আসলে ভোজন রসিকদের আনাগোনা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা পুরান ঢাকার খাবার ব্যবসায়ীদের। ভোজন রসিকরাও বলছেন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি আর খাবারের দামে ঠিক মতো নজরদারি হলে তারাও রাতের বেলায় ভোজন সফরে সাওয়ার হতে চান।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব রেস্তোরাঁ ব্যবসায়, ক্রেতা কমেছে ৩০ শতাংশ
এক হালি ডিমের দাম ৪৮ টাকার বেশি নয়