দখলদার ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে সমানতালে লড়ে যাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক মেজরসহ চারজন ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে।
টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সর্বশেষ ঘটনাটি ইসরাইলের চলমান স্থল অভিযান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সীমান্ত সংঘাত গুরুতর এক নতুন ধাপে পরিণত হয়েছে।
নিহতরা হলেন ক্যাপ্টেন রাব্বি আব্রাহাম ইয়োসেফ গোল্ডবার্গ, মেজর ইলিয়াভ আমরাম অ্যাবিটবল, ক্যাপ্টেন অমিত চাউত এবং মাস্টার সার্জেন্ট গিলাদ এলমালিয়াচ। তারা সবাই আলন ব্রিগেডের একটি ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করছিল। আহত ১৪ জন সৈন্যের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
এছাড়া এই সংঘর্ষে তিনজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাও নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তবে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি হিজবুল্লাহ।
সম্প্রতি এ ধরনের সংঘর্ষে ইসরাইলি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আইডিএফের হিসাব মতে, লেবাননে চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আইডিএফের ৫৫ জন সৈন্য ও রিজার্ভ সদস্য মারা গেছেন।
উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
এদিকে, হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো উত্তর ইসরাইলের স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রোববার কাতারভিক্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে উত্তর ইসরায়েলের ২৫টি বসতি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননের সীমান্ত থেকে তিন কিমি থেকে ২২ কিমির মধ্যে, যেখানে প্রায় দুই লাখ ইসরাইলি নাগরিক বসবাস করেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, এ নির্দেশনাটি ওই অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কৌশলের অংশ। আগে এ কৌশলটি বৈরুতের শহরতলিতে হামলার পূর্বে ব্যবহার করেছিলো ইসরাইলিরা। এখন হিজবুল্লাহও তাদের হামলার করার পূর্বে সতর্ক করতে ইসরাইলের এ কৌশল বেছে নিলো।
উপগ্রহ চিত্রে ইরানে হামলার ক্ষয়ক্ষতি