বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার কিছু হোটেল বাংলাদেশি পর্যটকদের বয়কটের ডাক দিয়েছে। কিন্তু সেই পথে হাঁটলো না কলকাতার নিউ মার্কেট ভিত্তিক সংগঠন 'মার্কুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি', 'নিউমার্কেট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন' ও 'হোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশন'।
বাংলাদেশি পর্যটকদের উদ্দেশে এসব সংগঠনের নেতারা বলছেন, আমরা বাংলাদেশিদের বয়কট করবো না। তারা যেন নিশ্চিন্তে এখানে আসেন। যতটা পারবো তাদেরকে নিরাপত্তা দেবো। শনিবার রীতিমতো সংবাদ সম্মেলনে করে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
মার্কুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির যুগ্ম সচিব মনতোষ সরকার বলেন, নিউমার্কেট মূলত বাংলাদেশ ভিত্তিক অঞ্চল। বাংলাদেশি পর্যটকদের উপর নির্ভর করে এখানকার মানি এক্সচেঞ্জ, হোটেল, পর্যটক ব্যবসা চলছে তাই তাদের অনুপস্থিতি দিয়ে আমাদের এখানে প্রভাব ফেলছে। যদিও বাংলাদেশকে আমরা বিদেশি পর্যটক হিসেবে দেখি না, তারা আমাদের ঘরের সদস্য। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম। তবে আশা করি আগামীদিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য কিছু গুজব ছড়াচ্ছে কিন্তু সেদিকে কান না দিয়ে বাংলাদেশের পর্যটকদের জানাবো তারা এখানে আসুন। কারণ দুই দেশের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশেই ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তাই, আমাদের উভয়পক্ষকেই এই সমস্যার সমাধানের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

কলকাতার এমআরএল হোটেলের মালিক মনতোষ সরকার এও বলেন, আমার হোটেলের ৮০ শতাংশ পর্যটক বাংলাদেশি, বাকি ২০ শতাংশ ভারতীয় পর্যটক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় পর্যটনের সংখ্যা ৬০ শতাংশ।
ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পর্যটক আসছেন কিন্তু সেই সংখ্যাটা খুবই কম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা এটুকুই বলতে চাই, বাংলাদেশিরা সকলেই আসবেন, তাদের স্বাগত। তারা সেবা পায় বলেই আমাদের এখানে আসে। আমরাও আমাদের সাধ্য মতন তাদের সেই পরিষেবা দেবো।
এক্সপোর্ট ইমপোর্ট, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়, পরিবহন ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলী হোসেইন শেখ বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমার ব্যবসা ডুবতে বসেছে। কারণ আমরা ভারতীয় এক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিতে হওয়া দরকার। আমাদের দেশ ভারত, ওপারে যারা আছে তাদের দেশ বাংলাদেশ।
ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করার দাবি জানিয়ে আলী হোসেন জানান, বর্তমানে যে অবস্থা জারি রয়েছে, তাতে বাংলাদেশের চাহিদা মিটছে না। সেইসাথে মাল্টিপল ভিসা, এমপ্লয়মেন্ট ভিসা চালু করার দাবি জানান তিনি। তিন মাসের জন্য এই ভিসা দেওয়া যেতে পারে। যদিও ভিসার বিষয়টি দুই দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে মনে করেন তিনি। ব্যবসা বান্ধব পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের কাছেও আবেদন জানান তিনি।
বাংলাদেশি পর্যটকদের নির্ভয়ে কলকাতায় আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কলকাতা আসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
মার্কুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মনতোষ সাহা বলেন, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পর্যটকদের যে ঢল ছিলো, সেটা এখন নেই। যার কারণে আমরা সবাই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তেমনিভাবে বাংলাদেশিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সবার আগে আমার দেশ। দুই দেশের সরকারকে নিজেদের মধ্যে বসে সুষ্ঠু সমাধান বের করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মূলত ডিসেম্বর থেকে সিজন শুরু হয়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক এই কলকাতায় আসেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
মার্কুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্য মোহাম্মদ কামরুদ্দিন মালিক বলেন, এখানে ধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা সকলেই ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের পর্যটকদের মধ্যে একটা আশঙ্কা আছে যে কলকাতায় গেলে কি হবে? কিন্তু আমি বলব আপনার নিশ্চিন্তে আসুন। ব্যবসা আজকে নেই, কালকে আবার ফিরে আসবে। কিন্তু মানুষের মধ্যে যে বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেলে সেটা ফিরে আসা কঠিন। কারো মনে যেন কোনো আতঙ্ক না থাকে। বাংলাদেশিদের জন্য কলকাতায় হোটেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে একটা গুজব রটেছে- এতে কান দেওয়া উচিত নয়।
গ্রীন লাইন পরিবহনের মালিক সঞ্জয় মজুমদার বলেন, কলকাতা নিউমার্কেটে প্রচুর হোটেল, দোকান রয়েছে। এর উপর বহু মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভর করে। কিন্তু বাংলাদেশি পর্যটক মহাশয় সেখানে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু লোকের রুটি-রুজি কমে গেছে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এখানকার অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়বে।
এদিকে সৌহার্দ্য বাসের মালিক অবনী ঘোষ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়কে দায়ী করে বলেন, কিছু কিছু খবরের কারণে দুই পাড়েই প্রভাব পড়ছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্ত্রির আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই শহরে দুই দেশের যে জটিলতা সেটা খুলতে পারে। ভিসা প্রক্রিয়াতেও কিছুটা শীতলতা আসতে পারে।
তিনি বলেন, 'অতিথি দেবো ভব' অর্থাৎ অতিথি হলো দেবতুল্য। আমরা এটা মেনে চলেছি আগামী দিনেও মেনে চলবো। কোথায় কী বলছে তাতে কান দেওয়ার দরকার নেই। আমরা বাংলাদেশিদের বয়কট করবো না। যতটা পারবো তাদেরকে নিরাপত্তা দেবো। সেটা সিসিটিভি দিয়ে হোক বা সার্বক্ষণিক নজরদারি দিয়েই হোক।
সীমান্তে ড্রোন মোতায়ন নিয়ে ইন্ডিয়া টুডের খবর বানোয়াট: প্রেস উইং
ভারতীয় হাইকমিশনের মৈত্রী দিবস উদযাপন
আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হলে ভারতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত
‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংখ্যালঘু ইস্যু অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে’