বছরের শেষদিন ৩১ ডিসেম্বর। পাশ্চাত্য বিশ্বে দিবসটি পরিচিত ‘থার্টি ফাস্ট’ হিসেবে। সময়ের পরিক্রমায় এই দিনটি উদযাপন এখন বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বেশ কিছুদিন ধরেই ভিন্ন এক কারণে ৩১ ডিসেম্বর মানুষের আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে।
রাত পোহালেই ৩১ ডিসেম্বর। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েতে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বায়াত্তরের সংবিধান বাতিল চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। তবে এর বেশি কিছু জানানো হয়নি।
সোমবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক অনুষ্ঠানে ৩১ ডিসেম্বর নিয়ে বলেছেন কবি, গবেষক ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, আমি জানি না তারা ওইদিন কী ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে তাদের উদ্দেশে বলবো, রাষ্ট্র ও সরকার এক নয়, জনগণের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র এবং সরকার এই দু’টি বিষয় আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়, আমরা আশা করবো ছাত্ররা আমাদের কাছে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করবেন।
সোমবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে ‘বিলকিস আলম’ পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরহাদ মজহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার অধিকারী, জনগণ সম্মতি ছাড়া কেউ শাসক হিসেবে দাবি করতে পারে না এবং জনগণের অনুমতি ছাড়া কোনো আইন পাশ হতে পারে না। এটাকেই বলে জনগণের সার্বভৌমত্ব। জনগণ যদি নিজের মধ্যে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারে, আমাদের সকলের জন্য এটা একটা কল্যাণকর হবে।
তিনি যোগ করেন, শেখ হাসিনা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন পাশ করেছে, সংবিধান বদলে দিয়েছে। সবকিছু বদলে দিয়ে তিনি রাষ্ট্রের নামে করেছেন। তবে তিনি রাষ্ট্রের নামে এটা করতে পারেন? উত্তর হচ্ছে না। যদি গণ সার্বভৌমত্ব থাকে তাহলে এটা তিনি করতে পারেন না। জনগণের সাথে পরামর্শ করে কাজ করতে হবে।
গবেষক ফরহাদ মজহার বলেন, দেশের ইতিহাস ভুলে যাওয়াকে ফ্যাসিজম বলে। রাজনীতি মানে আমাদের একটি সমাজ। ফ্যাসিজম আমাদের সকলের মধ্যেই রয়েছে। আমরা যদি ইতিহাস ভুলে যাই, তবে আমরাও ফ্যাসিজম হয়ে যাবো। ক্ষমতা থাকাকালীন শেখ হাসিনা ও একটি পক্ষও বলা শুরু করেছে এবং ইতিহাসকে ভুলে গিয়েছিলেন। সে জন্য তারা ফ্যাসিজম হয়ে গিয়েছে।
‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সমাজ গঠন ও বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই সমাজে থাকবে রাজনীতি। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং সকলেই মিলে হবে একটি আদর্শ সমাজ। এমন সমাজ যদি সৃষ্টি করতে পারি, তাহলেই আমাদের মধ্যে কোনো ফ্যাসিজম হবে না। আর যদি না পারি, তবে আমাদের মধ্যে আবারও ফ্যাসিজম সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন ফরহাদ মজহার।
শহীদ মিনার কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান ঘিরে ডিএমপির তিন নির্দেশনা