লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একদিন আগের সংঘাতের জেরে দুই পক্ষই আলাদা সাংবাদিক সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জুলাই ফাইটার্স। অন্যদিকে, এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে একই স্থানে সাংবাদিক সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ফাইটার্সের নেতা নাসিরুজ্জামান রাহাত অভিযোগ করেন, রোববার তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৪৪ ধারা জারির পরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি চালিয়ে যায়। তারা শহরে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং পুলিশের ওপরও হামলা চালিয়েছে।
রাহাত আরও দাবি করেন, রোববার ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি ছিল না; মূলত জুলাই ফাইটার্সের কর্মসূচিতে বাধা দিতেই প্রতিপক্ষ মাঠে নামে। সাংবাদিক সম্মেলনে আব্দুল আজিজ ও সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার রাতে করা সাংবাদিক সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহবায়ক আরমান হোসাইন বলেন, তাদের কর্মী ফাহিমকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়েছে। প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে কেন অযৌক্তিকভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।
সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারির আগে আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ করে ছাত্রদল সমর্থিত লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়, এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় যুগ্ম আহবায়ক আরিয়ান রায়হান ও সদস্য হাবিবুর রহমান ফাহিমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে রোববার চকবাজার এলাকায় একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে তা উপেক্ষা করে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। এতে সদর থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
