দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা থেকে মুক্তি। হাজারো নেতাকর্মীর মুক্ত পরিবেশে রাজনীতি করার মানসিক স্বস্তি। আছে আগামীতে ক্ষমতায় যাবার হাতছানি। সব মিলে ২৪-এ বাঁক বদল করা স্মরণীয় এক বছর পার করেছে বিএনপি।
২৮ অক্টোবর ২০২৩। কেবল বিএনপিই নয়। জাতির রাজনৈতিক ভাগ্যটাই যেনো নির্ধারিত হয়েছিলো এই দিনে। একতরফা নির্বাচন আয়োজনের প্রতিবাদে নয়াপল্টনে ছিল বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনকারীদের সমাবেশ। সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানী। আটক করা হয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীদেরও।
মূলত এটি ছিলো পতিত আওয়ামী লীগের আরও একটি একতরফা নির্বাচন আয়োজনের কৌশল। ডামি ভোটের সেই নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ।
হামলা মামলার ধকল সামলে ঘরোয়া সভা-সমাবেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন ও দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলে বিএনপি। যা গতি পায় গেলো জুনে শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর।
জুলাইয়ের কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের। ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১৭ বছরের বন্দিদশা থেকে যেনো মুক্তির স্বাদ পায় বিএনপি।
মিথ্যা- মামলায় দেওয়া সাজা থেকে মুক্ত হন বেগম খালেদা জিয়া। সাজামুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ অনেক নেতা। মুক্তি মেলে মিথ্যা মামলায় আটক নেতাকর্মীদের। মুক্ত পরিবেশে-বাধাহীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরে বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনকারী দলগুলো।
সব মিলে বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য একটি বাঁক বদলের বছর ছিলো ২০২৪ সাল। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধৈর্য ও কৌশলী নেতৃত্ব মানুষের মাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তারপরও বিদায়ী বছরটা কি বিএনপির জন্য স্বস্তির ছিলো?
নতুন বছরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটানো এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশকে গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করার লক্ষ্য বিএনপির।
আরেকটা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে: জামায়াত আমির