খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রাম এখনো থমথমে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়। পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আতঙ্ক কাটেনি তাদের।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর-উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চেয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন।
এদিকে, মন্দিরসহ হিন্দুদের দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শিয়ালী গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা শিলা রানী বিশ্বাস স্বপ্নে দেখেছিলেন তিনদিন ধরে পুরো গ্রামজুড়ে হরিকীর্তন করলে দেশ থেকে করোনা দূর হবে।
স্বপ্নে দেখা বিশ্বাসকে ধারণ করে, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে শিয়ালী পূর্বপাড়া মন্দির থেকে কিছু নারী ভক্ত কীর্তন করতে করতে শিয়ালী মহাশ্মশানের দিকে যাচ্ছিলেন।
মাঝপথে একটি মসজিদ থেকে ইমাম ও কয়েকজন মুসল্লি মসজিদের সামনে কীর্তন করতে নিষেধ করেন। তখন তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।
ঘটনার যেদিন মীমাংসা হওয়ার কথা সেই বিকেলেই হামলা হয় শিয়ালী গ্রামের বিভিন্ন মন্দির ও বাড়িঘরে।
বিয়ষটি নিয়ে শনিবার থানায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল পৌনে ৬টার দিকে শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ওই গ্রামে হামলা চালায়।
এই ঘটনাকে প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পূর্ব পরিকল্পনা বলছেন স্থানীয়রা। আর, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলছেন, এমন হামলায় সংখ্যালঘুদের হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে ধর্ষণের শিকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণী
এই সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন চেয়েছেন তারা।
উপাসনালয়গুলো পুনর্নির্মাণসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠন ও দলের নেতারা।
শিয়ালী গ্রামে এর আগেও ২০০৭ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা হয়েছিলো। সেই হামলার সুষ্ঠু বিচার হয়নি।
একাত্তর/আরএ
