ক্যাটাগরি বৈষম্য দূর করে আহতদের দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা এবং ইমার্জেন্সি হটলাইন চালুর দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন জুলাই আন্দোলনের আহতরা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে দিয়েছেন তারা। এর ফলে কার্যালয়ে কোনো যান ঢুকতে কিংবা বের হতে পারছে না।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে গেট থেকে কিছুটা দূরত্বে বসে আন্দোলন করা ব্যক্তিরা হঠাৎ করেই একেবারে সামনে এসে শুয়ে পড়েন।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএনসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
এর আগে বুধবার দুপুরে মিছিল নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে এসে সড়কে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পর্যাপ্ত সহায়তার দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এক পর্যায়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ অবস্থানকারীদের সঙ্গে দাবির বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি নিজে এখানে উপস্থিত হয়ে এই দাবিগুলো গ্রহণ করলাম। যে মন্ত্রণালয় এই দাবিগুলো নিয়ে কাজ করছে আমি নিজ হাতে তাদের কাছে পৌঁছে দেবো।
এদিকে আহত ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আহতদের তিন দাবি পূরণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত এখান থেকে সরে যাওয়া হবে না। আমরা এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো। পরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবার ভেতরে চলে যান।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রথম ‘উন্নত চিকিৎসার’ দাবিতে পঙ্গু হাসপাতালে সামনে বিক্ষোভ করেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আহত কয়েকশ’ ব্যক্তি। সেদিন রাত তিন দিকে সরকারের চার উপদেষ্টার আশ্বাসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান।
পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার থেকে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে সামনে আবারও বিক্ষোভে নামেন আহতরা। সেসময় তারা সুচিকিৎসার পাশাপাশি ‘পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি’রও দাবি তোলেন। সেদিন সেখানে সারা রাত আন্দোলন করার পর ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আগারগাঁও ও শ্যামলী মিরপুর রোড সড়ক অবরোধ করে দিনভর বিক্ষোভ করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুর সড়ক ছেড়ে বিক্ষোভরত আহত ব্যক্তিরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর আশ্বাসে রাত পৌনে দুইটার দিকে তারা যমুনার সামনে থেকে বিক্ষোভ ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান আন্দোলনে আহতরা।
ধর্ষকের ফাঁসি দাবি শিক্ষার্থীদের