পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই অবস্থায় যদি বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়, আমাকে সাংবাদিক বন্ধুরা বলেছিলেন আপনি কি মনে করেন? আমি বলেছিলাম, ইট উইল বি দ্য জেনোসাইড অব ইলেকশন। এটা ইলেকশনকে একদম খতম করে দেবে। চরম বিশৃঙ্খলা হবে, রক্তের বন্যায় বাংলাদেশ ভেসে যাবে।
তিনি বলেছেন, আমরা এটা চাই না। আমরা চাই সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে দেশে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে জনগণকে স্বস্তির সাথে তার ভোট প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে।
বুধবার সন্ধ্যার আগে পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ডোমার উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। তবে দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে কিছু আইনগত, কিছু প্রশাসনিক সহায়তা দেয়া। এতদিন ইউনিয়ন পরিষদগুলো আওয়ামী লীগের দখলে ছিলো। আওয়ামী লীগের নেতারা জোর করে তাদের ভাই, ভাতিজা, শালা-সমন্দিদের দিয়ে দখল করে রেখেছিলো। এরা এখন পালিয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যান-মেম্বার পালিয়ে গেছে, সাধারণ মানুষ যাবে কার কাছে?
এতোগুলো মানুষের দায়িত্ব কি প্রশাসক নেবে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও, যাদেরকে জনগণ নিজেদের প্রতিনিধি মনে করেন না। বরং এরা (প্রশাসক) ঘুষের রেট বাড়িয়ে দিয়ে মানুষতে আরও বেশি হয়রানি করছে। পৌরসভা ভেঙে দেয়া হয়েছে সেখানে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নাই। সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো জনপ্রতিনিধি নাই। এসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রতিদিন মানুষের জনদুর্ভোগ হচ্ছে। আমাদের রাজনীতি জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য নয়, আমাদের রাজনীতি দুর্ভোগ কমানোর জন্য।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ ভাগ হচ্ছে যুবক। এই যুবকদের ৬০ ভাগ হচ্ছে বেকার। কেন তারা বেকার থাকবে? তার অনেকগুলো কারণ আছে। এরমধ্যে একটি কারণ হলো সুশিক্ষার পরিবর্তে কুশিক্ষা। এই শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষ বানায় না, এই শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের নাগরিক গড়ে তুলে না। এজন্য সার্টিফিকেটের বস্তা নিয়ে যুবকদের এক অফিস থেকে আরেক অফিসে দৌড়াতে হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি; আল্লাহ যদি এই দেশ পরিচালনা দায়িত্ব আমাদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেয় ইনশাল্লাহ নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষ শিক্ষা এমনভাবে তোমাদের হাতে তুলে দেয়া হবে, যে দিনই তোমাদের শিক্ষার পাঠ শেষ হবে ওই দিনই সার্টিফিকেটের সাথে সাথে চাকরির অফার লেটারও তোমাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডোমার শাখা উপজেলা শাখা আমির খন্দকার মো. আহমাদুল হক মানিকের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর অঞ্চল টিমের সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, নীলফামারী জেলা আমীর আব্দুস সাত্তার।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম, সেক্রেটারি আন্তাজুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, কর্মপরিষদ সদস্য মনিরুজ্জামান মন্টু, মাওলানা আবু হানিফা শাহ্, প্রভাষাক মো. ছাদের হোসেন, প্রভাষক আব্দুল কাদিম, প্রভাষক মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি তাজমুল হোসেন সাগরসহ আরও অনেকে।
নতুন তথ্য উপদেষ্টা হলেন মাহফুজ আলম
পথভ্রষ্ট না হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের