ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা বা গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র) নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার গঠিত কমিশন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) তাদের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, ওই রিপোর্টে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে তারা।
ওই মার্কিন কমিশনের দাবি, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যার চেষ্টায় ‘র’-এর যোগ রয়েছে। সেই কারণেই এই সুপারিশ করেছে তারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
মার্কিন প্রশাসনের অধীন এই কমিশনটির মূল কাজ হলো বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর নজর রাখা। সেই মতো মার্কিন সরকারকে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে এই কমিশন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়া তথা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে চীনের প্রভাব ঠেকাতে ভারতকে একটি পছন্দের বিকল্প হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে, কমিশনের সুপারিশ মতো ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থাকে মার্কিন প্রশাসন নিষিদ্ধ করে দেবে, সেই সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
মূলত শিখ নেতা গুরপতবন্ত সিংহ পন্নুনকে ২০২৩ সালে হত্যার ষড়যন্ত্রে ‘র’-এর এক প্রাক্তন কর্মকর্তা জড়িত বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। ওই শিখ নেতা একজন মার্কিন নাগরিক।
মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই দাবি করেছিলো, ভারতে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত সংগঠন শিখ ফর জাস্টিসের (এসএফজে) নেতা পন্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন ‘র’-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা বিকাশ যাদব। যদিও নয়াদিল্লি তখনই জানিয়ে দিয়েছিলো, ওই ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো যোগ নেই।
রয়টার্স বলছে, বিকাশ এবং ‘র’ উভয়ের উপরেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য সুপারিশ করেছে মার্কিন কমিশন।
ওই কমিশনের দাবি, ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবনতি হয়েছে। সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি ওই কমিশনের। গত বছরের নির্বাচনী প্রচারের সময়ে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার’ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপি।
এর আগে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কিছু রিপোর্টেও সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছিলো। যদিও দিল্লি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের কথা আগেই জানত ভারত: জয়শঙ্কর
রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে চায় ইউক্রেন