কেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার কমিশন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মানবাধিকার কমিশন কেএনসিএইচআর এ তথ্য জানায়। রাজধানী নাইরোবি এবং এলডোরেট শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৫৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানায় কেএনসিএইচআর।
জাতিসংঘ বলেছে, তারা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহারের জন্য কেনিয়ান পুলিশকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। তবে কেনিয়া পুলিশ এখনও বলছে, বিক্ষোভে নিহত হয়েছে ১১ জন। দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।

এর আগে সোমবার দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলন ‘সাবা সাবা’–এর ৩৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। দিনটির স্মরণে প্রতি বছর কেনিয়ার মানুষ মিছিল বের করলেও এবার মিছিলটি কেনিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগের দাবিতে বড় আকার ধারণ করে।
সোমবারের এই বিক্ষোভ মূলত কেনিয়ার দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় সংগঠিত হলেও, তা দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় মূলত তরুণ প্রজন্মের জেন-জি জনগোষ্ঠী, প্রেসিডেন্ট বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন, যা প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগের দাবিকে সামনে নিয়ে আসে।

দেশটির পুলিশ শহরের কেন্দ্রস্থলে যাওয়ার বেশির ভাগ প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দিলে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ১৯৯০ সালে কেনিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল আরাপ মোইয়ের বহু বছরের ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছিল। সেই আন্দোলনকে স্মরণ করে প্রতি বছর ৭ জুলাই কেনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সোমবার সেই সমাবেশ থেকেই প্রেসিডেন্ট রুটোর পদত্যাগের দাবি ওঠে।
বিক্ষোভের মূলস্রোত ছিল রাজধানী নাইরোবিতে। বিক্ষোভ প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে যাওয়ার বেশিরভাগ প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
বিক্ষোভকারীরা সেই সব রাস্তা দিয়ে নাইরোবির কেন্দ্রস্থলে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেন। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের আটকাতেই খণ্ডযুদ্ধ বাধে পুলিশের সঙ্গে। তাদের আটকাতে জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। চালানো হয় গুলিও। তাতেই হতাহত হয় কয়েকশ’ বিক্ষোভকারী। এদের মধ্যে নিহত হয় ৩১ জন।
এর আগে গত ২৫ জুন সরকার বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনে ৬০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। মৃল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে দেশবাসীর উপর অতিরিক্ত কর চাপানোর প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল আন্দোলন। এর পর ফের সোমবার রুটোর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে উঠল কেনিয়া।
গুজরাটে সেতুর পাটাতন ধসে যানবাহন পানিতে, নিহত ১০
দুই শীর্ষ তালেবান নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা