ভারতের গুজরাটের ভদোদরা জেলার গাম্ভীরা সেতুর একটি অংশ ধসে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে সেতুটি ধসে পড়লে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেতুতে থাকা একাধিক যানবাহন নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারের কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
গম্ভীরা সেতু ধসে আনন্দ, বরোদা, ভারুচ ও অঙ্কালেশ্বরের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধিসের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক, একটি ভ্যান এবং একটি প্রাইভেট কার মহিসাগর নদীতে নিচে পড়ে যায়।
বুধবার স্থানীয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিট নাগাদ এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারকে দুই লক্ষ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে।

বর্তমানে ব্রিকস উপলক্ষ্যে ব্রাজিল সফরে রয়েছেন মোদি। সেখান থেকেই এই দুর্ঘটনার খবর শোনার পর শোক জানান তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, গুজরাটের ভদোদরা জেলায় একটি সেতু ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা গভীরভাবে দুঃখজনক। এই দুর্ঘটনায় যারা নিজেদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। প্রার্থনা করি আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেতু ভেঙে পড়ার জেরে দুটি ট্রাক, অটোরিকশা ও গাড়ি নদীতে পড়ে যায়। একটি ট্রাক ব্রিজের মুখে আটকে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, দমকলবাহিনী ও ডুবুরি দল। বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গাড়ি চলার সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এই সেতুটি। গুজরাটের মহিসাগর নদীর উপর নির্মিত ভদোদরা ও আনন্দ জেলার সংযোগকারী অত্যন্ত ব্যস্ততম এই সেতু। অভিযোগ উঠেছে, সেতুটি প্রায় ৪৩ বছরের পুরোনো হলেও বিন্দুমাত্র দেখভাল হত না।
অত্যন্ত বেহাল থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে নিয়েই চলত পারাপার। এরইমাঝে গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানিস্তর বেড়ে যাওয়ায় আরও দুর্বল হয়ে পড়ে সেতু। এ অবস্থায় ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসন এখন দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট করেনি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শুরু হচ্ছে