তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে গুরুতর পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে মঙ্গলবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এজন্য সৃষ্ট অসুবিধার জন্য যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের।
সোমবার জেন-জি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে পুলিশের গুলিতে ১৯ জন নিহত ও চার শতাধিক আহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে আসে এবং দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রিদের বাসভাবনে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয়ে বিক্ষোভকারীরা। এই পরিস্থিতিতেই ফ্লাইট বাতিল হলো।
কাঠমান্ডুর কোটেশ্বর এলাকার কাছে আগুনের ধোঁয়ার কুণ্ডলীর কারণে স্থানীয় সশয় দুপুর পৌণে একটার দিকে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষে জেনারেল ম্যানেজার হংস রাজ পান্ডে জানিয়েছেন, বিমানবন্দর বন্ধ নেই। আমরাও এটি বন্ধ করব না।
যানবাহন চলাচলে সমস্যার কারণে ক্রু ও পাইলটরা সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারছেন না, যার ফলে উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়ন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বুদ্ধ এয়ারসহ দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোও নিরাপত্তার কারণে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। সাময়িক দুর্ভোগের জন্য ক্ষমা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সানেপায় দেশটির ক্ষমতাসীন নেপালি কংগ্রেস দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তরুণ বিক্ষোভকারীরা। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলার সময় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে কংগ্রেসের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
সোমবার নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ১৯ জন তরুণ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পরদিন সকাল থেকেই আবারও রাজপথে নেমে আসতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। কর্তৃপক্ষ সমাবেশ দমনে বলপ্রয়োগ করার প্রতিবাদে এই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মকাণ্ড আরও তীব্র করে তোলে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি এবং প্রধান দলগুলোর কার্যালয় লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়।
কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং বেশ কয়েকটি জেলার পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে কারফিউ উপেক্ষা করেই রাজপথে নামছেন তরুণ বিক্ষোভকারীরা।
নেপালি কংগ্রেস দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন