হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের একটি নতুন ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে একটি বক্সের মধ্যে রাখা দুর্লভ মাটির খনিজ পদার্থ দেখাচ্ছিলেন। এই ছবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় বিরল মাটির খনিজ পদার্থ থাকা একটি খোলা কাঠের বাক্সের দিকে ইশারা করছেন, তখন জেনারেল মুনিরকে পাশেই দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের পাশেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শরীফকেও হালকা মেজাজে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে শরীফের সাথে দেখা করেন ট্রাম্প। গত ছয় বছরের মধ্যে হোয়াইট হাউসে আসা প্রথম পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শরীফ। এর আগে গত জুন মাসে ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে একান্তে বৈঠক করে আলোড়ন তৈরি করেছিলেন জেনারেল মুনির, কারণ এ ধরনের ঘটনা বিরল।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলে বলে জানা গেছে। পরে বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতিও দেন। সেখানে যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসাও করেন।
ওভাল আফিসের বৈঠকে জুলাই মাসে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শুল্ক চুক্তির জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান শরীফ। দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে যার মধ্যে পাকিস্তানি আমদানিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে পাকিস্তানের তেলের মজুদ উন্নয়নে সহায়তার সুযোগ দেবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে পাকিস্তান-মার্কিন অংশীদারিত্ব উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধার জন্য আরও জোরদার হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছেন শরীফ। তিনি আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে পাকিস্তানের কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, খনি ও খনিজ পদার্থ এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

কয়েক বছরের টানপোড়েন সম্পর্কের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতির জেরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দু’সপ্তাহ আগেই মার্কিন সংস্থা স্ট্র্যাটেজিক মেটালস-এর সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে একটি পলিমেটালিক রিফাইনারি তৈরি হবে। তারপরেই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক এবং এই ছবি। সেই রকম ইঙ্গিত দিয়েছেন জেনারেল মুনিরও। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের সিনিয়র এডিটর সুফাইল ওয়াররাইচকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানের কাছে বিরল খনিজের ভাণ্ডার আছে। এগুলো কাজে লাগাতে পারলে ঋণ অনেক কমে যাবে। পাকিস্তান পৃথিবীর সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডারের সন্ধান করতেও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি হলো। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপুল তেল ভাণ্ডার নিয়ে আমরা একত্রে কাজ করব। ট্যারিফ এবং ভিসার ফি বৃদ্ধি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব যত বাড়ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ততই বাড়াচ্ছে আমেরিকা। এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মাদকচক্রের নৃশংসতা, তিন নারীকে খুনের লাইভ স্ট্রিমিং!
এশিয়া কাপের ফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে ভারত