গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। চলতি মাসে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিথি ছিলেন তিনি। কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সরাসরি না জানিয়ে দেন যুবরাজ। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে রাজি নয় আরব বিশ্বের আরো বহু দেশ।
১৯৪৮ সালে একতরফা ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই আরব প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বহু মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ তাকে বয়কট করে আসছে। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু আইন করে। তাতে দেশটির কোম্পানিগুলোকে আরব বয়কটে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে প্রথম আব্রাহাম চুক্তিতে সই করেন তাঁরা। চুক্তিতে ইসরাইলে এ দেশগুলোর দূতাবাস খোলা, তার সঙ্গে বাণিজ্য শুরু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করা হয়।
ইরান আব্রাহাম চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে। পরের মাসগুলোতে সুদান ও মরক্কো এ চুক্তিতে যোগ দেয়। তবে সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির প্রতিশ্রুতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি।
সবাই আশা করছিল, আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি সৌদি আরবই হবে আব্রাহাম চুক্তির পরবর্তী সদস্য। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ চুক্তিতে সৌদি আরবের যোগদান অত্যাসন্ন। কিন্তু একই বছর অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সব আলোচনা থেমে যায়। এখন পর্যন্ত সেখানে ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী জর্ডান, মরক্কো নিজ দেশেই তীব্র জনবিক্ষোভের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া এবং নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক করবে না।
ফিলিস্তিনের সবচেয়ে বড় সমর্থক কাতার ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করেছে। সিরিয়ার ইসলামপন্থী নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাও বলেছেন, সিরিয়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক করবে না।
তুরস্ক ১৯৪৯ সাল থেকেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। কিন্তু গাজায় গণহত্যার পর তারা সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। পরবর্তী সময়ে আঙ্কারা ইসরাইলের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, বন্দরে ইসরাইলি জাহাজ নিষিদ্ধ করে। ইসরাইলের ‘শত্রু দেশ’ লেবাননের ক্ষেত্রেও একই কথা।
ইরাক, ওমান, কুয়েত, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও ইয়েমেনও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া ইসরাইলে দেশটির প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রচার হওয়া খবর অস্বীকার করেছে। গাজায় গণহত্যার সময় দেশটিতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বড় বিক্ষোভ হয়েছে।
গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পর মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ