কেরানীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ রুমা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়ার নেতৃত্বে জিনজিরা অমৃতাপুর এলাকা থেকে ওই নারীকে আটক করে পুলিশ।
জাল টাকা তৈরির জন্য বিশেষ ধরনের কাগজ তৈরি, তাতে বিভিন্ন ধরনের আঠা, নিরাপত্তা চিহ্ন বসানো ও ছাপা হওয়ার পর নোটগুলোকে মূল নোটের মতো করে কাটার জন্য কারখানায় তিনজন কারিগর রয়েছে।
অভিযানে জাল টাকাসহ কয়েক কোটি টাকা জাল নোট তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল শাহাবুদ্দিন কবির।

তিনি জানান, জিনজিরার অমৃতাপুরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে চক্রটি জাল নোট তৈরি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় জাল টাকা তৈরির কারখানায় বিশেষ কাগজ, নিরাপত্তা সুতা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ওই নারীকে আটক করা হয়।
তবে চক্রের নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতা মিনার পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: নৌ ভ্রমণে বের হওয়া নারীকে স্বামীর সামনে গণধর্ষণ
তিনি জানান, প্রিন্টারে চাপ দিতেই বেরিয়ে আসছে চকচকে হাজার টাকার নোট। খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো সবই জাল টাকা। পুলিশ আরো বলছে, বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারাদেশে তারা জাল টাকা সরবরাহ করে। এবার তাদের টার্গেট ছিল আসন্ন থার্টিফার্স্ট নাইট এবং নববর্ষ।
এ উপলক্ষে তারা বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল রুপি তৈরি করছিল বাজারে সরবরাহের জন্য। নকল নোট এমন সূক্ষ্মভাবে তৈরি করে যে, তা দেখে নকল বোঝার উপায় থাকে না। যে কারণে সহজেই চক্রটি বাজারে মানুষের কাছে নকল টাকা ছড়িয়ে দিতে পারে।
গ্রেপ্তার ওই নারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জাল রুপি, জাল টাকা তৈরির বিশেষ ধরনের কাগজ, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টারসহ জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। এসব উপকরণ দিয়ে আরও কয়েক কোটি জাল টাকা ও রুপি তৈরি করা সম্ভব। জব্দ করা জাল টাকার মধ্যে এক হাজার ও পাঁচশ টাকা মূল্যমানের নোট এবং জাল রুপির মধ্যে পাঁচশ রুপির জাল নোট রয়েছে।
