ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতরা যখন রাশিয়ার সাথে দরকষাকষিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। মাকিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও পুরো ইউক্রেন দখল এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় অংশগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার শান্তি আলোচকরা দাবি করছেন, পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী। তবে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্য মাইক কুইগলি জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য বরাবরই বলছে যে পুতিনের ক্ষুধা আরও বেশি। ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষ করে পোল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো নিশ্চিত, ইউক্রেনের পর তাদের ওপর হামলা হতে পারে।

রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক (ডনবাস) প্রদেশের শিল্পাঞ্চল। জাপোরিঝিয়া ও খেরসন প্রদেশের একাংশ। ২০১৪ সালে দখল করা কৌশলগত কৃষ্ণসাগর উপদ্বীপ ক্রিমিয়া।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে কিয়েভকে দোনেৎস্কের অবশিষ্ট অংশ থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং বেশিরভাগ ইউক্রেনীয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিলিয়নিয়ার স্টিভ উইটকফ একটি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। বার্লিনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য কিছু ‘রোবাস্ট’ বা শক্তিশালী গ্যারান্টির কথা বলা হয়েছে-
- ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েন: যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
- সেনা সংখ্যা নির্ধারণ: ইউক্রেনের সৈন্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮ লাখে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে (যদিও রাশিয়া আরও কম সংখ্যার দাবি জানাচ্ছে)।
- আকাশসীমা টহল: যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইউক্রেনের আকাশে বিমান টহল বা এয়ার প্যাট্রোলিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

শান্তি আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও পুতিন গত শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি কোনো সমঝোতায় যেতে রাজি নন। চলতি বছরে তার বাহিনী আরও ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। পুতিনের দাবি, তার দেয়া শর্তগুলো, অর্থাৎ ইউক্রেনের বিশাল অঞ্চল রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেয়া হলেই কেবল শান্তি সম্ভব।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি এই আশঙ্কার কথা স্বীকার করে বলেছেন, পুতিন কি আসলেই কোনো চুক্তি চান, নাকি পুরো দেশ দখল করতে চান- তা নিশ্চিত নয়। তবে যুদ্ধের শুরুতে তাদের যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি।
শান্তি আলোচনা বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া, অন্যদিকে পুতিনের সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই এই আলোচনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতেই ফ্লোরিডায় চলছে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা।
