বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বিদেশের মাটি ছেড়ে নিজভূমে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দিনভর লাখো মানুষের ভালোবাসা, আবেগ আর উল্লাসের জোয়ার পেরিয়ে দিনশেষে তিনি ফিরেছেন তার গুলশানের বাসভবনে। ১৭ বছর তিন মাসেরও বেশি সময় পর ঢাকার বাসায় একটি হবে তারেক রহমানের প্রথম রাত।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি যখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন রানওয়েতে সৃষ্টি হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য। বিমান থেকে নামার পর তিনি জুতো খুলে খালি পায়ে বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করেন। পরম মমতায় একমুঠো মাটি কপালে ঠেকিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, ১৭ বছরের নির্বাসন তার দেশপ্রেমের শিকড়কে আরও গভীরে নিয়ে গেছে।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর পুরো ঢাকা শহর যেন এক বিশাল মিছিলে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের প্রবল চাপে নিরাপত্তার খাতিরে তাকে একটি বিশেষ বাসে করে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনা মঞ্চে নেওয়া হয়। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাখ লাখ মানুষ তাকে স্বাগত জানায়।
ভাষণে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি স্বপ্ন ছিল, আর বাংলাদেশের জন্য আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। তিনি একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিকেলের আলো যখন ম্লান হয়ে আসছিলো, তখন তারেক রহমান পৌঁছান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে দাঁড়ান তিনি। মা ও ছেলের এই মিলন মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাকে দেখে তারেক রহমান বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। অসুস্থ মায়ের কপালে হাত রেখে দোয়া নেন তিনি।
হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ৮টার দিকে তারেক রহমান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গুলশান-২ নম্বরে তাঁর বাসভবনে (১৯৬ নম্বর বাড়ি) পৌঁছান। একই সময়ে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বাসার সামনে শত শত নেতাকর্মী স্লোগান দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিয় নেতার নিজের বাড়িতে ফেরার এই দৃশ্যটি নেতাকর্মীদের কাছে ছিল এক মহাবিজয়ের মতো।
পুরো দিনে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ-বিজিবি-র্যাবের সমন্বয়ে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বলয়ের কারণে এত বড় জনসমাগমের মাঝেও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরাও শৃঙ্খলারক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তারেক রহমানের এই ‘মহাপ্রত্যাবর্তন’ কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনীতির জন্যই এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। নির্বাসন শেষে ফিরে প্রথম দিনেই মানুষের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন এবং যে দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিয়েছেন, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে এক বিশাল মানসিক শক্তিতে রূপান্তর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র সুসংহত হবে: নাহিদ ইসলাম
তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নজর রাখবে জামায়াত: শফিকুর রহমান