টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'এ'-তে রোববার মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। তবে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের এই লড়াইয়ে চার-ছক্কার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে একটি প্রশ্ন, ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা কি একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাবেন? গত এক বছর ধরে চলা কূটনৈতিক ও মাঠের তিক্ততার প্রেক্ষাপটে এই ‘করমর্দন’ ইস্যুটি এখন টক অফ দ্য টাউন।
গত বছর এশিয়া কাপের সময় পাহলগাম হামলা এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’ পটভূমিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলো শুরু হয়েছিল চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানালে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং নারী বিশ্বকাপেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফলে রোববারের ম্যাচে দুই দলের সৌজন্যবোধ কেমন হবে, তা নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ কৌশলী জবাব দেন। তিনি বলেন, খেলা ক্রিকেটের চিরাচরিত চেতনা অনুযায়ী হওয়া উচিত। আমার প্রত্যাশা বড় কথা নয়, তবে ক্রিকেট শুরু থেকে যেভাবে খেলে আসা হচ্ছে, সেভাবেই খেলা উচিত বলে আমি মনে করি। বাকিটা তাদের (ভারত) ওপর নির্ভর করছে, তারা কী করতে চায়। হাত মেলানো হবে কি না, এমন সরাসরি প্রশ্নে তিনি রহস্য বজায় রেখে বলেন, সেটা কালকেই দেখতে পাবেন।
গত বছরের এশিয়া কাপে ভারতীয়দের করমর্দন না করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসির কাছে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছিল। পিসিবির দাবি ছিল, রেফারি খেলার চেতনা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে পাকিস্তানের একটি ম্যাচ এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছিল। পিসিবি এমনকি পাইক্রফটের কাছে ক্ষমাও দাবি করেছিল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের পাল্লাই ভারী। এখন পর্যন্ত আটবারের লড়াইয়ে ভারত জিতেছে সাতবার। পাকিস্তানের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০২১ সালে। নিজের দলের দুর্বল রেকর্ডের বিষয়ে সালমান আগা বলেন, ভারতের বিপক্ষে আমাদের রেকর্ড ভালো নয়, তবে আমরা ইতিহাস বদলাতে পারি না। প্রতিদিন একটি নতুন দিন। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত আছি।
রোববারের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখার কথা রয়েছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং পিসিবি প্রধান মহসিন নাভির। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলামও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। দুই দেশের ক্রিকেট কর্তাদের উপস্থিতিতে মাঠের নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কর্তৃপক্ষ।
তারিকের ‘অ্যাকশন’ বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন সালমান আগা