দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশে আবারও নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের যাত্রা শুরু হলো। মঙ্গলবার বিকেলে এক ঐতিহাসিক ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি ভবন ‘বঙ্গভবনের’ পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে সাদা শার্ট ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর ২৫ জন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞরাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। মন্ত্রীদের শপথের পর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়েন। তরুণ নেতৃত্ব ও বিভিন্ন জোটের শরিক দলের প্রতিনিধিদের এখানে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বাসস জানায়, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
শপথ অনুষ্ঠানটি ছিল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৩টি বন্ধুরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে ভারত, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেন।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের সামনে এখন রাষ্ট্র সংস্কার ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ। সমর্থকদের স্লোগান আর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চাপে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভা কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন সূর্যোদয় ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা
বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান