যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে তিন দফা লক্ষ্য সম্বলিত একটি শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভ। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের আকাশসীমা সম্পূর্ণ নিরাপদ করা এবং রাশিয়ার সামরিক অগ্রযাত্রাকে অসম্ভব করে তোলা।
ফেদোরোভের পরিকল্পনার প্রথম স্তম্ভ হলো বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষা। ইউক্রেনের লক্ষ্য হলো রিয়েল-টাইমে আকাশপথের শতভাগ হুমকি শনাক্ত করা এবং অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা। এর মাধ্যমে তিনি ইউক্রেনের আকাশকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছেন।

দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে শত্রু বাহিনীকে সবক্ষেত্রে থামিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ফেদোরোভ একটি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার জন্য প্রতি এক বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করা অসম্ভব করে তোলা হবে। তাঁর লক্ষ্য হলো প্রতি বর্গকিলোমিটার দখলের বিপরীতে ২০০ রুশ সেনার মৃত্যু নিশ্চিত করা।
তিনি বিশ্বাস করেন, এই পর্যায়ের প্রাণহানি ঘটানো গেলে রাশিয়ার পক্ষে আর সামনে এগোনো সম্ভব হবে না। এছাড়া স্থলপথের পাশাপাশি সমুদ্র ও সাইবার জগতেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার তৃতীয় এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর আঘাত হানা। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল রাজস্ব এবং তাদের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া জাহাজ বহরকে লক্ষ্যবস্তু করা ফেদোরোভের মতে, জ্বালানি সম্পদের আয় বন্ধ হলে রুশ অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই রণকৌশল শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং রাশিয়ার অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরির একটি বার্তা। ফেদোরোভ স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা প্রতিদিন কাজ করছি যাতে যুদ্ধের প্রতিটি দিন রাশিয়ার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। এই ঘোষণার মাধ্যমে ইউক্রেন স্পষ্ট করল যে, তারা কেবল সীমানা রক্ষা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে মস্কোকে পিছু হটতে বাধ্য করবে।
