ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাাইলি হামলা পঞ্চম দিনে প্রবেশ করায় পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। আকাশপথে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টায় বিকট শব্দে প্রকম্পিত হচ্ছে চারপাশ, আর সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে। বর্তমানে ইরানের একাধিক স্থানে ভয়াবহ হামলা চালানো হচ্ছে এবং তেহরানও অঞ্চলজুড়ে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার ভোরে ইসরাইল এক জরুরি সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সেই ‘হুমকি প্রতিহত’ করতে কাজ করছে। জেরুজালেম, তেল আবিবসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। তবে ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডোম’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আমরা অত্যন্ত বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি, যা সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কারণে হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটি ছিল একটি বিশাল আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাৱ, যা ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমতো হিমশিম খাইয়ে দিচ্ছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেন, জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে; ঠিক যেখানে দুদিন আগে ৯ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছিল।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত এক মাস স্থায়ী হতে পারে। তেহরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রতিশোধমূলক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আল-খারজ গভর্নরেটের ওপর দিয়ে উড়ে আসা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কিছু ‘শত্রুভাবাপন্ন আকাশযান’ ধ্বংস করার দাবি করেছে।
ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত: বুধবার তেহরানেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানীতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী শাখা- বাসিজের সাথে সংশ্লিষ্ট সব ভবনে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের দপ্তরগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় ইরানজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। তেহরান থেকে আল জাজিরার তৌহিদ আসাদি জানান, তেহরান ছাড়াও কারাজ ও ইসফাহানের মতো বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, তাদের স্থল বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অপারেশন শুরু করেছে এবং ২৩০টি ড্রোন এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে নৌ-অভিযান পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।
তৌহিদ আসাদি তার প্রতিবেদনের শেষে বলেন, তেহরানে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণই আমি দেখছি না; বরং সংঘাত ছড়িয়ে পড়াই এখন এই যুদ্ধের মূল প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
