ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি দেশটির এক ক্রান্তিকালে হাল ধরলেও, ব্যক্তিগত জীবনে এক বিশাল ক্ষত নিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তার পরিবারের কমপক্ষে আটজন সদস্যকে হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তার দুই ছেলের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। মোজতবা খামেনির মোট তিন সন্তান- দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

যুদ্ধে তার পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে প্রাণ হারান পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি আমৃত্যু সর্বোচ্চ নেতা পদে আসীন ছিলেন। এছাড়া কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনেইর মা মনসুরেহ খোজাসতেহ বাঘেরজাদেহও একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে নিহতের সংখ্যা চার।
অন্যান্য কিছু অসমর্থিত প্রতিবেদনে তার আরও চারজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তিনি তার বোন, এক ভাগ্নে, এক ভাগ্নি এবং এক ভগ্নিপতিকেও হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার পরিবারের মোট আটসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে।

তবে বিমান হামলায় নিহতদের নাম নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আলী খামেনির চার ছেলে ও দুই মেয়ে ছিল; ফলে নিহত নাতি-নাতনিরা তার ছয় সন্তানের যে কোনো একজনের পরিবারের হতে পারে।
মোজতবা খামেনির এই অভিষেককে চীন ও রাশিয়া স্বাগত জানিয়েছে। তিনি একজন কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। ৮৮ সদস্যের একটি ওলামা পরিষদ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) ভোটের মাধ্যমে তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করলেও ভোটের ব্যবধান প্রকাশ করেনি।

এই কট্টরপন্থী আলেম দীর্ঘ বছর ধরে পর্দার অন্তরাল থেকে বিপ্লবী গার্ডসের (আইআরজিসি) কমান্ড কাঠামো এবং রাষ্ট্রের সমান্তরালে চলা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কগুলোতে নিজের প্রভাব সুসংহত করেছেন। তার পিতার মৃত্যু শুধু সেই উত্তরাধিকার প্রক্রিয়াকেই ত্বরান্বিত করেছে, যা বহু বছর ধরে নীরবে চলছিল।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। রোববার তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, আমাদের অনুমোদন ছাড়া সে বেশিদিন টিকবে না। আর, সোমবার ট্রাম্প টাইমস অব ইসরাইলকে বলেন, দেখা যাক কী হয়।
এদিকে ইসরাইল নেতা নির্বাচনের আগে ঘোষণা করেছিল, যেই নির্বাচিত হোক না কেন তাকে আঘাত করা হবে; তবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর তারা আর কোনো মন্তব্য করেনি।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা এখন ইরানের শাসনব্যবস্থার প্রতিটি অঙ্গের ওপর চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। এই পদটি শুধু নামমাত্র বা আনুষ্ঠানিক কোনো পদ নয়।
এদিকে নেতৃত্বের এই পটপরিবর্তনের মধ্যেও যুদ্ধের কোনো বিরাম নেই। সোমবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী মধ্য ইরানে নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাল্লাও ভারি হচ্ছে।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এখন চলমান যুদ্ধে পর্যন্ত ১,৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের সপ্তম সেনার মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন নতুন হামলা খবর আসছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
১৯৭৯ সালের পর ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি