নিরাপত্তার অভাব ও নিজ দেশে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা পাওয়ার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদন জানান।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টুর্নামেন্ট চলাকালীন ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজার সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই নারী ফুটবলাররা। ইরানি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে একে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে তাদের ওপর ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ আসার আশঙ্কা তৈরি হলে তারা এই চরম পদক্ষেপ নেন।
দলের অধিনায়ক জাহরা ঘনবারিসহ পাঁচজন ফুটবলার গোল্ড কোস্টের টিম হোটেল থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছান। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা কিছুদিন ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশায় অস্ট্রেলিয়ানরা মর্মাহত। তারা এখানে নিরাপদ আছেন এবং তারা যেন নিজেদের ঘরের মতোই অনুভব করেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, সরকার কয়েক দিন ধরে অত্যন্ত গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। তারা হোটেল ত্যাগ করার পর তাদের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মানবিক কারণে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসা দেওয়া হয়েছে। ভিসা পেপার সই করার সময় খেলোয়াড়রা ‘অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া’ স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই নারী খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, তাদের ইরানে ফেরত পাঠানো হবে একটি ‘ভয়ানক মানবিক ভুল’।
পরে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সাথে ফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, খেলোয়াড়রা বর্তমানে নিরাপদ হেফাজতে আছেন।
দলের বাকি সদস্যরা দেশে ফিরবেন কি না বা তারা অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দলের অন্য সদস্যরাও চাইলে দেশটিতে থাকার সুযোগ পাবেন।
দেখা মিলেছে হঠাৎ উধাও মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের