বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি ইরান জানিয়েছিল, তাতে পানি ঢেলে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত বছর ঘোষিত সূচি অনুযায়ীই খেলা হবে এবং ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মেক্সিকোতে ম্যাচ স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা সোজা জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘোষিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, ইরানকে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো মার্কিন মাটিতেই খেলতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিতর্কিত মন্তব্যে বলেন, ইরানি দল আমার দেশে খেলতে এলে স্বাগত, তবে তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) না আসাই হয়তো উচিত হবে।
ট্রাম্পের এই পরোক্ষ হুমকির জবাবে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গর্জে উঠেছেন। তিনি বলেন, যখন ট্রাম্প নিজেই আমাদের দলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না, তখন আমরা নিশ্চিতভাবেই আমেরিকায় যাব না। আমরা মেক্সিকোর সাথে কথা বলছি যাতে আমাদের ম্যাচগুলো সেখানে আয়োজন করা হয়।
ইরানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ফিফা রাজি থাকলে মেক্সিকো ইরানের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশের সাথেই মেক্সিকোর কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তাই আমরা ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু ফিফা এই মুহূর্তে কোনো ধরণের ভেন্যু পরিবর্তনের পথে হাঁটতে নারাজ।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন ইরানি প্রতিনিধি দলের ভিসা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে না। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার কথা।

এশিয়া থেকে জাপানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে প্রায় এক বছর আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল ইরান। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরানের দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে (নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে) এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে (মিশরের বিরুদ্ধে) হওয়ার কথা রয়েছে।
ফিফার এই অনড় সিদ্ধান্ত ইরানকে এক কঠিন সংকটের মুখে ঠেলে দিল। একদিকে যুদ্ধাবস্থা, অন্যদিকে খোদ আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার প্রচ্ছন্ন হুমকি, সব মিলিয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখবে কি না, তা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-রয়টার্স
আমেরিকায় যাবে না ইরান, খেলতে চায় মেক্সিকোতে
শিরোপা কেড়ে নেয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ল সেনেগাল!