করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলছে স্কুলের দরজা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাবার আনন্দে ভাসলেও সাম্প্রতিক বন্যায় স্কুলে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডুবে যাওয়া শিক্ষা প্রতিস্থানগুলোর শিক্ষার্থীরা। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব স্কুল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সেসব স্কুল ১২ সেপ্টেম্বর খোলার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সেক্ষেত্রেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন, কবে খুলবে স্কুল সেবিষয়ে।
বন্যার কারণে ১২ সেপ্টেম্বর খোলার ব্যাপারে অনিশ্চিতায় রয়েছে রাজবাড়ীর ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজবাড়ী জেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বছরের বন্যায় রাজবাড়ী জেলার ২৪টি বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়েছিল। যেহেতু দ্রুতই কমছে পদ্মার পানি তাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। পানি এভাবে কমতে থাকলে ৭ থেকে ৮টি বাদে বাকি বিদ্যালয়গুলো খোলা সম্ভব হবে। আর পানি বাড়লে আবার বন্ধ হয়ে যাবে সব কটি বিদ্যালয়।
.png)
এদিকে মানিকগঞ্জে ৬৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৪টি বিদ্যালয় বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৫টি বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পানি উঠে পড়ায় সেগুলো আপাতত প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকপর্যায়ে ২৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধ্যে চরাঞ্চলে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কিছু বিদ্যালয়ের চারদিকে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়ায় বিপাকে পড়তে পারে।
এবিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা জাহান বলেন, আমরা আশা করছি দ্রুতই স্কুল মাঠ ও শ্রেণীকক্ষ থেকে পানি নেমে যাবে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
.png)
আবার টাঙ্গাইলেও ১৬২৪টি প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে ৩৬৬টির আঙিনায় পানি জমে আছে। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলী আহসান বলেন, ইতিমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা দ্রুতই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়ে আসতে পারবো। তাছাড়া বিকল্প হিসেবে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে স্কুলের আশেপাশে উঁচু জায়গায় বা বাড়িতে ক্লাস চালুর ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। আর পানি আরও বাড়লে আমরা স্কুল খুলতে না পারলেও, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিত দেখানো হবে না।
একাত্তর/আরএইচ
