ইরান যুদ্ধ থামাতে এবার কূটনেতিক লড়াইয়ে সামিল হলো পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা আয়োজনে তার দেশ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত করার এবং তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করার একদিন পরই এই প্রস্তাব দিলেন শরিফ।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে চলমান সংলাপের প্রচেষ্টাকে পাকিস্তান স্বাগত জানায় এবং পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় পক্ষ সম্মত থাকলে, চলমান এই সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ আলোচনার আয়োজন করতে পাকিস্তান প্রস্তুত এবং একে সম্মানের বিষয় বলে মনে করে।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতার সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। তিনি জানান, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা সোমবারও চলছিল, যেখানে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্ত ছিলেন।
তবে ইরানের প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ আলোচনার এই দাবিকে ভুয়া খবর হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, কালিবাফ নিজেই ইরানি পক্ষের হয়ে আলোচনার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি- এই অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান সে সময় দাবি করেছিল, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এর জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে। এমনকি ইরান কার্যকরভাবে 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিয়েছে, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স ও এনডিটিভি
মার্কিন বাহিনীকে ‘পঙ্গু’ করে দেয়ার হুমকি ইরানি সমর নেতার
ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে পারবেন?