লক্ষ্মীপুরে নানাবাড়ি থেকে ঈদের আনন্দ নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফিরছিলেন মুফতি আব্দুল মোমিন ও তার পরিবার। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবারটি। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় বাস ও প্রাইভেট কারের ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে ১২ বছরের কিশোর হাফেজ আবরার। তবে বাবা-মা আর ভাই-বোনকে হারিয়ে সে এখন নির্বাক। পরিবারের আরেক সদস্য বড় ভাই হুজাইফা (২৫) নানাবাড়িতে থেকে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানাবাড়ি থেকে প্রাইভেট কারে করে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফিরছিলেন। পথে কালাকচুয়া এলাকার ‘মিয়ামি’ হোটেলে খাবারের বিরতি শেষে আবারও যাত্রা শুরু করেন তারা। হোটেল থেকে বের হয়ে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ওঠার সময় চট্টগ্রামগামী ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস প্রাইভেট কারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক জামাল হোসেন (৫০)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আর্মি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার মুফতি আব্দুল মোমিন (৫২), তার স্ত্রী দিল আফরোজ আক্তার (৪৫), মেয়ে লাবিবা (২১) এবং ছোট ছেলে আরশাদ (৬)। নিহত চালক জামাল হোসেনের বাড়ি বরিশাল জেলায়। এই পরিবারের স্থায়ী নিবাস নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে।
শুরুতে আবরারকে জানানো হয়নি যে, তার আপনজনরা আর নেই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে বলা হয়েছিল সবাই সুস্থ আছেন। রাতে ময়নামতি হাইওয়ে থানায় স্বজনরা মরদেহ নিতে এলে সত্যটি জানতে পারে সে। এরপর থেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল কিশোর আবরার।
আবরারের মামা মাওলানা ফয়সাল আহমেদ ও মুফতি জাবেদ হোসেন অভিযোগ করেন, চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দোষী চালকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে মনে হয়েছিল গাড়ির কেউ বেঁচে নেই। আবরারের বেঁচে থাকাটা সত্যিই অলৌকিক। আমরা ঘাতক বাসটি জব্দ করেছি, তবে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ঈদের পরপরই এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সদর উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই সহায়তা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় গ্রেপ্তার বগুড়া-২ আসনের সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ