নেতিবাচক প্রতিযোগিতা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায় চীন। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই মনোভাবের কথা জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের দুই মাসেরও কম সময় আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনের রাজধানীতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই বৈঠকে অংশ নেন।
বিবৃতি অনুসারে, ওয়াং মার্কিন প্রতিনিধি গ্রিয়ারকে বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দুই পরাশক্তিকে অবশ্যই ‘প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার মধ্যকার সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে’ এবং ‘ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলতে হবে।’
গত বছর বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই অর্থনীতি একটি তিক্ত বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে গত অক্টোবরে তারা একটি ‘যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়। চলতি মাসে প্যারিসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করেছে।
তা সত্ত্বেও সম্পর্কে টানাপোড়েন কাটেনি। মার্কিন শুল্ক, চীনের অনুকূলে থাকা বাণিজ্য ভারসাম্য এবং উন্নত প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় এখনো সম্পর্কের জন্য বড় হুমকি। বৈঠকে ওয়াং সম্প্রতি ঘোষিত মার্কিন বাণিজ্য তদন্তের বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন, যা নতুন করে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের এই তদন্ত চীনসহ ৬০টি অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। এতে ‘জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা’ এবং এই ব্যর্থতাগুলো মার্কিন বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সফরের সময় কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিং সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি খুলতে জি৭ -এর সমর্থন চাইলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী