মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পূর্ণ হলো এক মাস। এরই মধ্যে ইরান হারিয়েছে তাদের সর্বোচ্চ নেতা- আলী খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব। সংঘাত ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে। এতে শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায়, মার্কিন-ইসরাইলি সেনাসহ নিহত হয়েছে ৩৬ জন। আহত আরও অনেকে। সংঘাতের এক মাস পেরিয়ে গেলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি, বরং নতুন করে বাড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র।

পারমানবিক ইস্যুতে বিরোধের সাথে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব পরিবর্তনের ভাবনা থেকে গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম যৌথ হামলা চালায় মার্কিন-ইসরাইল বাহিনী।
হামলার প্রথম দিনই ইরান হারায়, তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে, এমনকি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহতের গুঞ্জন ওঠে। সেদিনই নিহত হন, দেশটির প্রতিক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিসহ ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলি রেজা তাংসিরি নিহত হন।

শুধু ইরানের নেতৃত্বই নয়, দেশটিতে এখন পর্যন্ত নিহত অন্তত ১ হাজার ৯০০ মানুষ, আহত আরও ২০ হাজার। হামলার প্রথম দিনই মিনাব স্কুলে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলায় ঝরেছে ১৭৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের প্রাণ। যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্বজুড়ে।
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৪২ জনের। যাদের মধ্যে রয়েছে ১২২ শিশু ও ৪২ স্বাস্থ্যকর্মী। ইরাকে নিহত ৯৬ জন, কুর্দিস্তান অঞ্চলে ১৩ জন।

ইসরাইলে প্রাণ গেছে ১৯ বেসামরিক নাগরিকের। আর দক্ষিণ লেবাননে নিহত তাদের ৪ সেনা। আর পশ্চিম তীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সহিংসতায় নিহত অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেরও নিহত হয়েছে ১৩ সেনাসদস্য।
ইরানের হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও প্রাণ হারিয়েছেন, বাংলাদেশীসহ ৩০ জনের বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে অনেকেই অভিবাসী শ্রমিক।
