আজ ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকী আজ। নাইন-ইলেভেনের (৯/১১) ঘটনা বদলে দিয়েছিলো আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ। এ সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার মধ্যদিয়ে পশ্চিমা ব্লক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়ে উঠেছিলো আরও আগ্রাসী। এ হামলার পর বদলে গিয়েছিলো বিশ্ব মানচিত্র।
২০ বছর আগে, ২০০১ সালে এদিন ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। টুইন টাওয়ারের পাশের আরেকটি ভবনও ধ্বংস হয়। একইদিনে হামলা করা হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে। এ ঘটনায় প্রাণ হারায় প্রায় তিন হাজার মানুষ। আহত ও হামলার দুর্বিষহ স্মৃতি নিয়ে স্তম্ভিত হয়ে পরে আরও কয়েক হাজার মানুষ।
নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ নামে পশ্চিমা দুনিয়া। এ হামলার জন্য দায়ী করা হয় ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তঃদেশীয় সালাফিবাদ জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে। দলটির তৎকালীন নেতা ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা জোটের পক্ষে থেকে বলা হয়, আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছে। শুধু হয় 'অনন্ত যুদ্ধ'। আফগানিস্তানে হামলা চালায় ওয়াশিংটন।

আফগানিস্তানে হামলা চালানোর পর ক্ষমতাচ্যুত করা হয় লাদেনের মিত্র তৎকালীন তালেবান সরকারকে। গোপনে চলে যায় লাদেন এবং একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধের নামে চালায় বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি লাদেনের। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু হয় মার্কিন সেনাদের হাতে। পর এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিশরীয় আয়মান আল-জাওয়াহিরি।
গত ২০ বছরে পরিবর্তন এসেছে আফগানিস্তান দৃশ্যপটেও। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২০তম বার্ষিকীর মাত্র কয়েকদিন আগেই আফগানিস্তানে আবার নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করে তালেবান গোষ্ঠী। অর্থনৈতিক ক্ষতি ও ধাক্কা সামলাতে আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

আবার কাবুলের মসনদে বসেছে তালেবান। এরইমধ্যে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে দেশটিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে তালেবান।
আর এই কারণেই নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকীতে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ঘোষণা করেছিল পেন্টাগন, সেই যুদ্ধের মাঠ থেকে এভাবে ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি মার্কিন গণমাধ্যম। নতুন করে সমালোচনায় ভাসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং পেন্টাগন।

এমন পরিস্থিতিতেই এবার ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২০তম বার্ষিকী পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় নিহতদের স্মরণ করছে দেশতি। নিহতদের স্মরণে নিউ ইয়র্কে নির্মিত স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন থেকে শুধু করে সাধারণ মানুষ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যে তিন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল সে সবকটি স্থান পরিদর্শনে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আরেকটি পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সেখান থেকে পরে তারা পেন্টাগনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে মিলিত হবেন।

নিহতদের স্মরণে আলোকসজ্জার আয়োজন করেছে নিউ ইয়র্কের ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম। স্থানীয় সময় শনিবার সূর্যাস্তের সময় ব্যাটারি পার্কিং গ্যারেজের ছাদ থেকে টুইন টাওয়ারের আদলে সাত হাজার ওয়াটের ৮৮টি বাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, মেট্রোপলিটন অপেরা, লিঙ্কন সেন্টার প্লাজা এবং নিউ ইয়র্ক হিস্ট্রিক্যাল সোসাইটিসহ নিউ ইয়র্কের সুউচ্চ ভবনগুলোর ছাদে আলোকসজ্জা করা হবে।
এদিকে শুক্রবার হামলায় এফবিআই-এর তদন্তের নথি পর্যালোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন বাইডেন। ২০ বছর আগের এই ঘটনা বদলে দিয়েছিলো দুনিয়ার মানচিত্র। দুই দশকে অনেক পরিবর্তন এসেছে মানুষের চিন্তায়। নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলা এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মার্কিনীদের মধ্যেই। সবার একই প্রশ্ন, এতো কিছুর পর শেষ পর্যন্ত কাদের জয় হলো?
একাত্তর/আরবিএস
