যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তেহরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসছে, ঠিক তখনই পাল্টা চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। মঙ্গলবার দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যদি আবারও আক্রমণ চালায়, তবে তারা তাদের ইউরেনিয়াম মজুতকে ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ করতে পারে, যা সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মান হিসেবে বিবেচিত।

ইরানি সংসদীয় কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, আরেকবার হামলা হলে ইরানের হাতে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ। বিষয়টি আমরা পার্লামেন্টে গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশ যদি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে, তবে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো তাদের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে খুবই সহজ হয়ে যায়। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত রয়েছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।
আট বছরে ১১ হাজার কেজি ইউরেনিয়ামের পাহাড়
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর গত আট বছরে ইরান প্রায় ১১,০০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
যদিও ইরান সবসময় দাবি করে আসছে যে তাদের এই কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য, তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এই বিপুল মজুত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কোথায় আছে এই পরমাণু ভাণ্ডার?
ইরানের এই বিশাল ইউরেনিয়াম মজুত এখন কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রসি মনে করছেন, এই সামগ্রীর বড় একটি অংশ এখনো ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে এবং চলতি বছরের মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানের সময় এই কেন্দ্রটি হামলার শিকার হয়েছিল। গ্রসি জানিয়েছেন, সংস্থাটি এখনো সাইটটি পরিদর্শন করে আইএইএ-র সিলগুলো অক্ষত আছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ট্রাম্পের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ও যুদ্ধের দামামা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এই ইউরেনিয়াম মজুতকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পরমাণু ধূলিকণা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একেই ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর গত ৭০ দিনের সামরিক অভিযানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।” এমনকি তিনি কঠোর হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন যে, ওয়াশিংটন এই মজুতের ওপর কড়া নজর রাখছে এবং কেউ যদি এই উপকরণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে তাদের ‘উড়িয়ে দেয়া’ হবে।
