পর্তুগিজ ফুটবল ঈশ্বর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে ফুটবল পাড়ায় যখনই সমালোচনা জমে ওঠে, তখনই সি.আর.সেভেন ভক্তদের মুখে হাসি ফুটিয়ে মাঠে নামেন পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেস। ইউরোপের পাট চুকিয়ে রোনালদো যখন সৌদি প্রো লিগে যোগ দিলেন, তখন অনেক সমালোচকই বাঁকা হাসিতে বলেছিলেন, রোনালদোর দিন শেষ, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এবার তাঁর কার্যকারিতা কমবে! শুধু কি তাই, তার বিশ্বকাপের সুযোগ পাওয়া নিয়েও খোঁচা দিয়েছে অনেকে।
কিন্তু সমালোচকদের মুখের ওপর ঝামা ঘষে দিয়ে কোচ মার্তিনেস স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সৌদি আরবে গিয়ে রোনালদোর ধার কমেনি তো বটেই, বরং তাঁর ভেতরের গোলক্ষুধা আরও প্রলয়ংকরী রূপ নিয়েছে।

রোনালদোর বর্তমান ফিটনেস আর খেলার ধার নিজের চোখে পরখ করতে সম্প্রতি রিয়াদে এক বিশেষ ‘স্কাউটিং মিশনে’ গিয়েছিলেন ৫২ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। গত ১২ মে কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে আল-নাসর ও আল-হিলালের মধ্যকার ১-১ গোলের হাই-ভোল্টেজ ড্র ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন তিনি।
মূলত রুবেন নেভেস ও জোয়াও ফেলিক্সের পাশাপাশি পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদোর পারফরম্যান্স যাচাই করাই ছিল তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। আর সেখানে গিয়ে ৪১ বছর বয়সী এই বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখে কোচের চোখ তো চড়কগাছ! চলতি মরসুমে ইতিমধ্যেই ২৬টি গোল আর ৩টি অ্যাসিস্ট করে আল-নাসরকে সৌদি প্রো লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে টেনে তুলেছেন এই ফুটবল মহাতারকা।

রিয়াদ সফর শেষে জার্মান প্রেস এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেশ রসিয়ে রসিয়েই রোনালদোর প্রশংসা করেন মার্তিনেস। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে এক চিলতে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, "ক্রিশ্চিয়ানোর জেতার ইচ্ছা এখনও আগের মতোই আকাশচুম্বী।
সৌদি আরবে আসার পর থেকে তাঁর খেলার মান বিন্দুমাত্র কমেছে বলে আমার মনে হয় না। ও অসাধারণ খেলছে এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের জন্য ও কতটা অপরিহার্য, তা বারবার প্রমাণ করেছে। এত এত সাফল্য আর ট্রফি জেতার পরও ওর ভেতরের এই গোলক্ষুধা আর জেদ সত্যিই অবিশ্বাস্য!
তবে শুধু প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়াই নয়, অধিনায়ককে তাঁর দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিতেও ভুলেননি মার্তিনেস। কিছুটা কড়া সুরে তিনি মনে করিয়ে দেন, দলে টিকে থাকতে হলে শুধু নামের ওজন বা অতীত ইতিহাস দিয়ে চলবেন না, পারফর্ম করতে হবে মাঠেই।

মার্তিনেস স্পষ্ট বলেন, শুধু অতীতের অর্জনই জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার গ্যারান্টি হতে পারে না, দলের জয়ে অবদান রাখাটাই আসল। ও আমাদের অধিনায়ক এবং ওর অতুলনীয় প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু দিনশেষে জাতীয় দলের আর পাঁচটা সাধারণ খেলোয়াড়ের মতোই সমান দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ওর ওপরেও বর্তায়।
এখন ফুটবল বিশ্বের সমস্ত চোখ আগামী ১৯ মে মঙ্গলবারের দিকে, যেদিন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য পর্তুগালের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন মার্তিনেস। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এবং রোনালদো দলে ডাক পান, তবে ২০০৬ সালে অভিষেকের পর বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়বেন এই কিংবদন্তি।
আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে উত্তর আমেরিকার মাটিতে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। ‘গ্রুপ কে’-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।
