পরিবারের হাল ধরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগছাড়া গ্রামের যুবক সুরুজ কাজী। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তার জীবনে ডেকে আনে নির্মম পরিণতি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পরিবারে চলছে আহাজারি।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে স্থানীয় দালাল দেলো মাতুব্বরের প্রলোভনে পড়ে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুরুজ কাজী। প্রথমে তাকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে ভালো চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে বাংলাদেশি দালাল জাফরের মাধ্যমে তিনি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ পরিবারের।

সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত হন সুরুজ। প্রথমে তার মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হলেও, রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক মুঠোফোনে বিষয়টি পরিবারকে নিশ্চিত করেন।
সুরুজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় জমে। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা।
নিহত সুরুজের বোন শারমিন বলেন, আমার ভাইকে রাশিয়ান কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার কথা বলে দালালরা টাকার বিনিময়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। ওই দালালদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, নিহত সুরুজ কাজীর মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক আইনি সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি এভাবে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে না যাওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
অসচ্ছল পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা এবং সুরুজ কাজীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
রামিসা হত্যা মামলায় আসামি পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী
রামিসা হত্যায় উত্তাল পল্লবী, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ