বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে তুরস্ক। যদিও স্কোরলাইন বলছে ম্যাচটি ছিল হাড্ডাহাড্ডি, বাস্তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। তুরস্ক বরং রক্ষণ শক্ত রেখে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানো এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার কৌশলেই ম্যাচ শেষ করেছে।
বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজায় মার্কিনরা। তবে শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাব এবং তুরস্কের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হতে হয় তাদের। কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগও নষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্র, ফলে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়।

অন্যদিকে, পুরো দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক খুব বেশি আক্রমণে না উঠলেও রক্ষণে ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। নিজেদের অর্ধে খেলোয়াড়দের গুছিয়ে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের গতি বারবার থামিয়ে দেয় তারা। একই সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে আসে সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। মাঝমাঠে দুর্দান্ত দক্ষতায় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে নটমেগ করে আক্রমণের সূচনা করেন তরুণ তারকা আর্দা গুলের। এরপর ধৈর্যের সঙ্গে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করে তুরস্ক। ক্যান উজুন পোস্টের সামনে থেকে বল বাড়িয়ে দেন ক্যান আয়হানের উদ্দেশে। সহজ ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান আয়হান, আর তাতেই নিশ্চিত হয় তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ জয়।
পরাজয়ের হতাশা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের পারফরম্যান্স। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই তারকা দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ছন্দে ছিলেন এবং আক্রমণে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যদিও গোল বা পয়েন্ট এনে দিতে পারেননি, তবু তার ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া আগামী ম্যাচগুলোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুইডেনকে রুখে শেষ বত্রিশে জাপান, এবার ব্রাজিল পরীক্ষা
তিউনিশিয়াকে হারিয়ে গ্রুপসেরা নেদারল্যান্ডস, সামনে মরক্কো