তালেবানের হঠাৎ প্রত্যাবর্তনে বিপাকে পড়েছেন বিদেশে অবস্থানরত শত শত আফগান কূটনীতিবিদ। একদিকে দূতাবাসের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে টাকার অভাবে হিমশিম খাচ্ছেন, অন্যদিকে আফগানিস্তানে থাকা পরিবার পরিজনের নিরাপত্তা নিয়ে পড়েছেন চিন্তায়।
গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের দখল নেয়ার একমাস পর মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে দেশে আফগান দূতাবাসে বার্তা পাঠিয়েছে তালেবান। তবে কানাডা, জার্মানি ও জাপানসহ আটটি দেশের কূটনীতিবিদরা সংবাদ সংস্থা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, তাদের দূতাবাসে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া নিয়ে দোটানায় ভুগছে, তখন একরকম অচলাবস্থায় রয়েছে আফগান দূতাবাসগুলো। প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাদের কোন সরকার নেই, নেই বাস্তবায়ন করার মতো কোন নীতি।
আরও পড়ুন: টাইমসের প্রভাবশালীর তালিকায় তালেবান নেতা বেরাদার
এই অবস্থায় বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাবেক আফগান সরকারের একদল কূটনীতিবিদ এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বার্লিনে নিযুক্ত এক আফগান কূটনীতিবিদ জানিয়েছেন, অনেক দেশেই আফগান কূটনীতিবিদরা সেই দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়ার জন্য।
এমনকি, তারা শরণার্থী হিসেবেও থাকতে রাজি বলে জানিয়েছেন ওই কূটনীতিবিদ। আফগানিস্তানে তাদের সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান তারা।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান পালালেন আফগান নারী ফুটবলাররা
নব্বইয়ের দশকে তালেবানের ছয় বছরের শাসনামলে বিভিন্ন কট্টর নীতির জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় জঙ্গি সংগঠনটি। তাই এবার নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর তাদের কার্যক্রম নিয়ে সন্দিহান বেশিরভাগ দেশ। যদিও তালেবান বলছে, এখন থেকে আগের চেয়ে উদার পথে হাঁটবে তারা। নারীদের পড়াশোনার অধিকার দেয়ার পাশাপাশি, বিরোধীদের ক্ষমা করে দেয়ার কোথাও জানিয়েছে তারা।
তবে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিরোধীদের হত্যা, সাংবাদিক মারধোর এবং নারী অধিকার আদায়ের সমাবেশে হামলার অভিযোগে ইতোমধ্যে সমালোচিত হয়েছে তালেবান।
