‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র অভূতপূর্ব সাফল্যের পর শুরু হলো আন্দোলনের মূল মুখ ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকের জীবনের এক নতুন অধ্যায়। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার পর, দীর্ঘ ৩৭ দিনের অবর্ণনীয় মানসিক ও শারীরিক ধকল শেষে অবশেষে তিনি একটু বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন।
রোরবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বেশ চিন্তামুক্ত ও প্রশান্ত ভঙ্গিতে ধরা দেন অভিজিৎ। টানা ৩৭ দিনের কঠিন আন্দোলনের স্মৃতিকথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অবশেষে এমন একটি সকাল এলো যখন কোনো আতঙ্ক ছাড়া শোবার ঘরে শান্তিতে ঘুমানো বা ঘুম থেকে ওঠার সুযোগ পাচ্ছি; আর ভাবতে হচ্ছে না যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে বা পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। তবে, অনুগামীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এটি কেবল সূচনা মাত্র। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দূর যাওয়া বাকি।

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে অভিজিৎ সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে, দেখতে দেখতে মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে এটি দেশের 'জেন-জি' বা তরুণ প্রজন্মকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। সিজেপি’র সমর্থকেরা নিজেদের রসিকতা করে ‘ককরোচ’ বা আরশোলা বলে পরিচয় দিতেন। কিছুদিনের মধ্যেই হাজার হাজার তরুণ দিল্লির রাজপথ ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু জন্তর মন্তর দখল করেন; ইনকিলাব স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ।
পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও প্রশ্ন ফাঁসের জন্য আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকেই দায়ী করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন। জলঘোলা হতে থাকলেও ক্ষণে ক্ষণে আন্দোলনে সমর্থক বাড়তে থাকে। অবশেষে গতকাল ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন, সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না বলে জানান অভিজিৎ। নানা সংশয় ও সমালোচনার মধ্যেও যারা সিজেপি’র পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত থাকায় জন্তর মন্তরে উপস্থিত থেকে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
ভিডিও বার্তায় আবেগপ্লুত অভিজিৎ বলেন, যাঁরা টানা ৩৭ দিন ধরে জন্তর মন্তরে অপেক্ষা করেছেন, আমি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের জন্য আপনারা যা করেছেন, তার মূল্য অপরিসীম। পাশাপাশি সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি যোগ করেন, গঠনমূলক সমালোচনাই তাঁদের ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
