জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত হেভিওয়েট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বিচার চলার সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে বলেন, এ জাতীয় রাজনীতিবিদের জন্ম যাতে এ দেশে আর কোনোদিন না হয় এবং জনগণের ম্যান্ডেটের দোহাই দিয়ে ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন নৃশংস কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-দুইয়ে বুধবার এই বহুল আলোচিত মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন)। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনার মধ্য দিয়েই নিজেদের যুক্তিতর্ক পর্ব শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এই মামলার মূল আসামি ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। বিচারপ্রক্রিয়ার শুরু থেকেই এই মামলার সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।
আদালতে যুক্তিতর্ক তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে যে নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে, তার ব্যক্তিগত দায় এই মামলার প্রত্যেক আসামির ওপর বর্তায়। পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের নীতি-নির্ধারণী পদে থাকায় তাঁদের সবার ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (উচ্চতর কমান্ডের দায়িত্ব) রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা তাঁদের অর্পিত ক্ষমতাবলে এই ভয়াবহ অপরাধ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা তো করেনইনি, বরং উল্টো উস্কানি দিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের অপরাধ বন্ধের পদক্ষেপ না নিয়ে আন্দোলনকারীদের সরাসরি ‘মারার জন্য’ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জেনেশুনেই এমন প্রাণঘাতী নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং সেই নির্দেশনার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, তারা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। হাজারো নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা এবং প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করার মূল দায় এই আসামিদের ঘাড়েই চাপে।
অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, এই আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা শিথিলতা পাওয়ার বিন্দুমাত্র হকদার নন। বিচারিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী মানসিকতার পুনরাবৃত্তি রুখতে তাঁদের সর্বোচ্চ সাজার বিকল্প নেই।
সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, আশা প্রতিমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আসছে উন্নত সুরক্ষার ১৯ এলএইচবি কোচ
যুক্তিতর্ক শেষ, কাদের-আরাফাতসহ সাত জনের সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ