একটি লঘুচাপের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন আরেকটি লঘুচাপ। এর প্রভাবে পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা।
চার দিনের ব্যবধানে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় আজ ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় গভীর সমুদ্রে টিকতে না পেরে অনেক জেলেকে উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। এতে মাছ ধরার কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
রোববার (১৬ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি ও সতর্ক সংকেত জারির বিষয়টি জানানো হয়।
তবে উপকূলীয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় আজ সকালে ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে মেঘ দেখা দেয়। কোথাও রোদ, কোথাও মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। এর মধ্যে মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও হয়েছে। নদ-নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেড়েছিল। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও গভীর বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে।
উপজেলার কোড়ালিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, জুলাই মাসটা পুরো সময়ই জেলেদের কষ্টের মধ্যে কেটেছে। বারবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারেননি তারা। আগস্ট মাসের শুরুটা কিছুটা ভালো থাকায় জেলেরা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন আবার পরপর দুইটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় অনেক জেলেকে গভীর সাগর থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে জেলেদের যেমন মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তাদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এর আগে গত জুলাই মাসেও একের পর এক তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন সমুদ্রগামী জেলেরা। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ মৌসুমি নিম্নচাপ এবং আরেকটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। বারবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছিল জেলেদের। চলতি আগস্টের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পরপর দুই লঘুচাপে ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। পরে সেটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং এরপর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। পরে দুর্বল হয়ে শনিবার আবার লঘুচাপে রূপ নেয় সেটি। এর প্রভাব কাটতে না কাটতেই রোববার নতুন এই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫১, ঘরছাড়া বহু মানুষ