ভেনেজুয়েলায় গত জুনে পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ৪৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ভূমিকম্পের প্রায় দুই মাস পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজন ও উদ্ধারকর্মীরা।
সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার জর্জ রদ্রিগেজ নতুন করে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ছয় হাজার ৩০১ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ৪৩৮ জনে পৌঁছেছে।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে শক্তিশালী ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর আঘাত হানা ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ১৯০টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ঘরবাড়ি। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার বাড়ি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পাশাপাশি নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষ এখনো অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। এসব শিবিরে খাবার, নিরাপদ পানি, চিকিৎসা ও বাসস্থানের সংকটের পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়াও দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
এর মধ্যেই রাজধানী কারাকাসে চলতি সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্থাপন করা কয়েকটি অস্থায়ী তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত ও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খোলা আকাশের নিচে বা আরও অনিরাপদ পরিবেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে নতুন ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চার হাজার নতুন ঘর প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যের তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি এখনো অনেক পিছিয়ে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৩৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে ঘর হারানো হাজারো মানুষের পুনর্বাসন কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ভূমিকম্পের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান, অন্যদিকে আশ্রয়হীন মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন—দুই দিকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আবারও কি নতুন করে শুরু হচ্ছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ?
‘প্রতি রাতে ৩০-৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত’