জিয়া হত্যা মামলা: তদন্তে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এ ঘটনার দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের ব্যবহৃত ফোন থেকে পাওয়া ডিজিটাল আলামত (এভিডেন্স) এই মামলার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হত্যাকাণ্ডের স্থান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিশেষ প্রসিকিউটর।

তানভীর হাসান জোহা জানান, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনো অনেক ধোঁয়াশা ও রহস্য রয়ে গেছে। আর সেই রহস্য উন্মোচনে গ্রেপ্তার মোজাফফর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বলেন, মোজাফফরের সঙ্গে দেশের ভেতর ও দেশের বাইরের বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য আমরা পেয়েছি। তারা আসলে রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রক্ষা করলেন এবং কীভাবে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করলেন—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি এতোদিন অবস্থান করেছেন এবং কার ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন ব্যাংকে লেনদেন সম্পন্ন করেছেন, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের সময় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর। হত্যার পর জরুরি নথিপত্র খোঁজা এবং জিয়াউর রহমানের মরদেহ সরানোর কাজেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সেনাক্যাম্পের পরিস্থিতি ও ক্ষমতার হাতবদলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিলো। ওই সময় ঘটনার সবচেয়ে বড়ো সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হন মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর। তবে পুলিশের হেফাজতে থাকা মঞ্জুরকে পরবর্তীতে কীভাবে এবং কার সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো, সেটিও এক বড়ো প্রশ্ন।

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, তৎকালীন প্রশাসক কেন তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে এটি করা হয়েছিলো—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যেহেতু এটি একটি সিভিল এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, তাই পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কার নির্দেশে নিয়ে যাওয়া হলো এবং পরবর্তীতে কীভাবে সেখানে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলো, পোস্টমর্টেম কে করলেন—এসব উত্তর খোঁজা হচ্ছে। সেসময় সেখানে যে গুলি করার তথ্য পাওয়া যায়, তা তৎকালীন কমিশন নির্ণয় করতে পারেনি। মূলত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সরাসরি কে গুলি করেছিলেন এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

তবে এই রহস্য উন্মোচনে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিশেষ প্রসিকিউটর জানান, ওই সময়কার জীবিত সেনা কর্মকর্তা বা তাদের তৎকালীন জুনিয়রদের বক্তব্য, দেশের গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে থাকা বিভিন্ন প্রতিবেদনের সমন্বয়ে প্রকৃত কারণ বের করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিলো, তা-ও তদন্ত করে দেখা হবে।

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করে তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছে থাকা একটি ‘সিক্রেট পেপার’ বা গোপন নথির খোঁজে হামলাকারীরা সেখানে তল্লাশি চালিয়েছিল বলে কিছু তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী ছিলো এবং তাকে হত্যার পর সেই নির্দিষ্ট নথিটি নিয়ে তাদের এতো আগ্রহ থাকার কারণ কী ছিলো—সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।

এছাড়াও এ হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন অন্য সেনা কর্মকর্তা—লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততার ভূমিকাও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান বিশেষ প্রসিকিউটর।

একাত্তর/এসি
মুক্তিযোদ্ধার হাতে গড়া দল বিএনপিকে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেও ব্যর্থ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। 
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
জনগণকে দেওয়া সমস্ত নির্বাচনী অঙ্গীকার বিএনপি সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের...
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রমনা বটমূলে দলটি প্রতিষ্ঠা...
দালাল চক্রের মাধ্যমে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা দুই দম্পতিসহ চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
অপরাধ এবং বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো অপরাধীকে সুরক্ষা বা অনুকম্পা দেয়া হবে না।
কবি আল মুজাহিদীকে স্মরণ করে আগামীকাল বাংলা একাডেমিতে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকার আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের ইমামের থাকার ঘরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর