মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মধ্যেই পবিত্র শহর মক্কার ওপর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক বিবৃতিতে জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি সফলভাবে প্রতিহত করে।
বিবৃতিতে তুর্কি আল-মালকি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এটি ছিলো মক্কাকে লক্ষ্য করে ইরান সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের দ্বিতীয় হামলা চেষ্টা। মক্কার নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় বিষয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে জোটের মুখপাত্র বলেন, এই ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরব যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে। পবিত্র শহর মক্কা বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান ও বার্ষিক হজের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
অন্যদিকে, হুথি পরিচালিত ‘সাবা’ বার্তা সংস্থার খবরে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, মক্কা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো পরিকল্পনা বা ঘটনা ঘটেনি।
সৌদি আরবের ওপর হুথিদের এসব হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছয় মাসব্যাপী চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এমনিতেই সীমিত হয়ে পড়েছিলো। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ ‘বাব আল-মান্দেব’-এর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় হরমুজ প্রণালী থেকে সরিয়ে আনা সৌদি তেল রপ্তানি কার্যক্রমও এখন চরম হুমকির মুখে।
গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনে চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরবের ওপর বেশ কয়েকটি বড়ো হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা। সোমবার দেশটির একটি বিমান ঘাঁটিতে চালানো হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন বলে জানায় সামরিক জোট। এছাড়া লোহিত সাগরের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ক্ষেত্রের সংযোগকারী এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’-এ গত শুক্রবার বড়ো ধরনের হামলা চালানো হয়। এ হামলার পেছনে ইরাক-ভিত্তিক ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরব।
শুক্রবারের হামলার পর পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চার শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কবে নাগাদ পাইপলাইনের কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে কিছু না জানালেও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট মঙ্গলবার সিএনবিসি-কে বলেন, দ্রুতই তেল প্রবাহ শুরু হবে।
২০১৫ সাল থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সৌদি জোট সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মুখোমুখি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামরিক সহায়তা চেয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আপাতত কেবল গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
