রাজধানীর প্রতিবেশী জেলা গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চরম সংকট কাটিয়ে অবশেষে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ ঘোষণার পর শিল্পাঞ্চলটিতে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের উপদ্রব উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
এতে স্থবির হয়ে পড়া কারখানাগুলোতে উৎপাদনে স্বাভাবিক গতি ফিরতে শুরু করেছে, যা তৈরি পোশাক, ডাইয়িং, স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতের শিল্প মালিকদের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং উৎপাদনে তার ইতিবাচক প্রভাব পর্যালোচনা করতে সরজমিনে মাঠে নেমেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি জেলার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেমন স্প্যারো ফ্যাশন ও ডিবিএল গার্মেন্টস পরিদর্শনের পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের জয়দেবপুর গ্রিড এবং তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানার মালিক, তিতাস গ্যাস এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি আলোচনা করেন। শিল্পখাতের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় জোরদার করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কিছুদিন আগেও গ্যাসের স্বল্প চাপ এবং অনিয়মিত বিদ্যুতের কারণে গাজীপুরের শিল্পমালিকেরা নির্ধারিত সময়ে বিদেশি বায়ারদের পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বৃদ্ধি পাচ্ছিল উৎপাদন ব্যয়ও।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পূর্বে যেখানে মাত্র ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তা বাড়িয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হয়েছে। সরবরাহের এই বড় ধরনের আমূল পরিবর্তনের ফলেই মূলত কারখানার চাকা দ্রুত ঘুরতে শুরু করেছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পাঞ্চলে পোশাক ও বস্ত্র খাতের বিপুলসংখ্যক কারখানা গড়ে উঠেছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখে। শিল্প মালিকেরা সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে স্বাভাবিক থাকলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি উৎপাদন খরচ কমে আর্থিক ক্ষতিও হ্রাস পাবে।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া আশ্বাস দিয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিল্প খাতের চাকা সচল রাখতে জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শিল্প খাতের স্বার্থে তিতাস ও পল্লী বিদ্যুতের মতো সংস্থাসমূহের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় অব্যাহত রেখে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই উন্নত পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
